দেশের ক্যাবল টিভি শিল্প ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগকে সুরক্ষা দেওয়াই আমাদের কাজ। ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে একটি যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা নিরসন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ঢাকা লেডিস ক্লাবে ‘কেবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব)’ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ক্যাবল শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, সাবমেরিন ক্যাবল থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে ঘরে ঘরে সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের যে বিনিয়োগ ও উদ্যোগ, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো এই শিল্পের সকল পক্ষের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে একটি টেকসই সমাধান বের করা।
শিল্পের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও পাইরেসি প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইন্টারনেটভিত্তিক সমাজে আইপি টিভি বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান। বৈধ ব্যবসায়ী ও সরকারের স্বার্থ নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও জানান, রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী বিটিআরসি যেমন তদারকি করবে, তেমনি উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাদের ন্যায্য অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, দুই পক্ষের মধ্যে একটা ‘হ্যাপি ম্যারেজ’ বা সুন্দর বোঝাপড়া তৈরি হলে কোনো পক্ষই ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।
প্রযুক্তিনির্ভর এই খাতের জটিলতাগুলো নিরসনে তিনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পর্যালোচনায় আগ্রহী। এ লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে তাদের সমস্যাগুলো প্রযুক্তিগতভাবে সুবিন্যস্ত করে মন্ত্রণালয়ের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বিটিআরসি, মন্ত্রণালয় এবং স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে একটি স্থায়ী কাঠামোগত সমাধান বের করা হবে বলে আশ্বাস দেন জহির উদ্দিন স্বপন।
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার যেকোনো বৈধ ব্যবসায়িক উদ্যোগের সুরক্ষায় কাজ করে। আপনারা যারা ইতোমধ্যেই এই খাতে বিশাল বিনিয়োগ করেছেন, আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। অবৈধ ইন্টারসেপশন বা পাইরেসি রোধ করে সাধারণ দর্শকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে আমরা আপনাদের পাশে থাকব।









