নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে দলটির।
সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল হতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন , ‘দলকে আরও শক্তিশালী করতে দ্রুততম সময়ে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ৪৭ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়েছে।’
কোরবানির ঈদের আগে কাউন্সিল হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে সম্ভব নয়। এজন্য আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।’
দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান (ভার্চুয়ালি), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান (ভার্চুয়ালি) ও অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রায় তিন মাস পর স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল।
পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে বিএনপি।
সর্বশেষ দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা। সে হিসেবে ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যেই সপ্তম কাউন্সিল আয়োজনের বাধ্যবাধকতা ছিল।
তবে ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর ১০ বছর পার হলেও সপ্তম কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। এর পেছনে বিগত সরকারের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সিনিয়র নেতাদের কারাবরণ, করোনা মহামারিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণ-অভ্যুত্থানকে কারণ হিসেবে দেখছে বিএনপি।









