বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে একটি পাম্পের তেল দুই দিন পর্যন্ত চলত, এখন তা মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই তেল কোথায় যাচ্ছে সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারসাজি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলছিলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলে উল্লেখ করেন, আগে যে তেল দুই দিন চলত, এখন কীভাবে দুই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়? এই তেল কোথায় যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তেল নিয়ে কাউকে ‘তেলেসমাতি’ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে তাকে অনেক সময় পেট্রল পাম্প এবং পেট্রল ডিপো পাহারা দিতে হয়, যাতে তেল চুরি না হয়।
তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, এত নজরদারির পরও চুরি বন্ধ হচ্ছে না। এর পেছনে মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, মানুষের চরিত্রের অবনতি ঘটায় এ ধরনের অনিয়ম বেড়ে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম (বার)।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কামরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমান বাচ্চু, সিরাজগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেছের আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, কামারখন্দ উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হকসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তাদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন, যেখানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।









