ভারতীয় সংগীত ইতিহাসে বিরল এক কাকতালীয় ঘটনা- দুই কিংবদন্তি বোনের জীবনের শেষ অধ্যায় যেন একই সুরে বাঁধা। চার বছরের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে- দু’জনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন একই হাসপাতাল, একই দিন (রবিবার) এবং একই বয়স ৯২-তে এসে।
গতকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) আশা ভোঁসলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই অনন্য কাকতালীয় ঘটনার পূর্ণতা আসে। শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার একদিন পরই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
ঠিক চার বছর আগে, ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, একই দিন রোববারেই একই হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন তার বড় বোন লতা মঙ্গেশকর। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে, যা তখন গোটা উপমহাদেশকে শোকাহত করেছিল।
দুই বোনের জীবনযাত্রা যেমন কাছাকাছি ছিল, তেমনি তাদের সংগীতজীবনও একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ইন্দোরে জন্ম নেওয়া এই দুই শিল্পী শৈশব থেকেই সংগীতচর্চায় বড় হয়েছেন, পিতা পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকরের তত্ত্বাবধানে। পরে তারা ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছান, যা আজও তুলনাহীন।
লতা মঙ্গেশকর তার ক্যারিয়ারে ৩৫টিরও বেশি ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়ে ‘সুরের সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিতি পান। অন্যদিকে আশা ভোঁসলে নিজস্ব স্বতন্ত্রতা দিয়ে গজল, পপ, ক্যাবারে থেকে শুরু করে আধুনিক সব ধারার গানে সফলতা দেখান। ‘দম মারো দম’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’র মতো গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
দুই বোনই পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর স্বীকৃতি। আশা ভোঁসলে অর্জন করেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্মভূষণ, আর লতা মঙ্গেশকর পেয়েছেন একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা।
তাদের এই জীবনগাথা শুধু সংগীতের সাফল্যের গল্প নয়, বরং সময়, স্মৃতি ও নিয়তির এক আশ্চর্য মিলনও বটে। একই ছাদের নিচে শুরু হওয়া দুই বোনের পথচলা শেষ পর্যন্ত এসে মিলেছে একই ঠিকানায়- যা সংগীতপ্রেমীদের মনে এক অদ্ভুত আবেগ ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।









