মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। তেল আবিব-এর কিরিয়া সামরিক ঘাঁটির কাছে ইরানের নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি ক্লাস্টার ওয়ারহেড আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। এই কিরিয়া ঘাঁটিই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শনিবার সংঘটিত এ হামলায় ঘাঁটির পাশের একটি পার্কিং লট এবং কাছাকাছি একটি স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অন্তত ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
একই সময় রামাত গান এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্রের ক্লাস্টার ওয়ারহেডের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং আশপাশের কয়েকটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ভেতরে এখনো কিছু বাসিন্দা আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে পাল্টা উত্তেজনার মধ্যে ইরান থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির খুজেস্তান প্রদেশ-এর ডেপুটি গভর্নর জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী মাহশাহ’র বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
তার দেওয়া তথ্যমতে, শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজ-এর পূর্ব ও পশ্চিম এলাকায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর কিছুক্ষণ পর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহ’র পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাতেও আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যদিও এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, ইসরাইল-ইরান উত্তেজনা নতুন করে সহিংস রূপ নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।









