প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কল্যাণ রাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চাই, যেখানে পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণই হবে প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমীর খসরু এসব কথা বলেন।
এসময় সঠিক নেতৃত্ব ও সদিচ্ছা থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যেও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সাধারণত কোন প্রকল্পই বছরের পর বছরেও বাস্তবায়ন করা যায় না। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার সেটিকে ভুল প্রমাণ করেছে।
অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে পিছিয়ে পড়া মানুষ উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের সুফল শুধু উপরের কিছু মানুষ পাবে আর বাকিরা বঞ্চিত থাকবে-এই ধরনের অর্থনীতি বাংলাদেশে চলবে না। একেবারে হতদরিদ্রদের দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুরু করেছি। এরপর ধাপে ধাপে দরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্তদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।
এত অল্প সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করলে অল্প সময়েই সুফল পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়; স্বাস্থ্যসেবায় বিনামূল্যে চিকিৎসা, কৃষকদের স্বল্পমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং খাল খননের মত কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আমীর খসরু জানান, আজ চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৭৭৫টি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এখানে দলীয়করণের সুযোগ ছিল না। পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী আর জানান, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যেসব সেবা চালু করা হবে, সেগুলো দলীয় প্রভাবমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের বাড়িতে গিয়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে তাদের আর সরকারি দপ্তর বা রাজনীতিবিদদের পেছনে ঘুরতে না হয়।
কৃষকদের সহায়তার প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেছেন, দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এখন তারা নতুনভাবে কৃষিকাজ শুরু করতে পারবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করবে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।









