২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি অভিযোগ করেন যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলো সক্রিয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একটি ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে’ মানুষ এখন পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও কারণগুলো বুঝতে পারছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৯ সালের এই দিনে পিলখানায় হামলাকারীরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ২০০৯ সালের পর তৎকালীন কর্তৃপক্ষ দিনটিকে যথাযথ গুরুত্বের সাথে পালন করেনি। তবে বর্তমান সরকার ২০২৪ সাল থেকে দিনটিকে 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' হিসেবে পালন করছে।
স্মরণ সভায় প্রধানমন্ত্রী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় তিনি বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, হত্যাকাণ্ডের পর কিছু গোষ্ঠী মিথ্যা বর্ণনা এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন জাতির সম্মান, বীরত্ব এবং গর্বের প্রতীক। তাই ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাগরিকদের প্রতি শপথ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সম্মান রক্ষায় সকলকে সজাগ থাকতে হবে যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনও না ঘটে।









