ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্যতম কুশীলব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে ডিবি পুলিশের পাঁচদিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এই সময় তার মুখে উঠে আসছে ২০০৭ সালের সেই বিতর্কিত সরকারের নেপথ্যের নানা অন্ধকার অধ্যায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মাসুদ রিমান্ডে জানিয়েছেন যে, ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের মূল পরিকল্পনা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (‘র’) তৈরি করেছিল। সংস্থাটি পরিকল্পনায় কাজে লাগিয়েছিল তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে। সূত্র মতে, পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক সমন্বয় করে জাতিসংঘের তৎকালীন আবাসিক অফিসের নামে ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়।
ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ প্রাথমিকভাবে নিজের দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করছেন, ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়ন এবং কিংস পার্টি গঠনের মূল কারিগর ছিলেন এটিএম আমিন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, নবম ডিভিশনের জিওসি হিসেবে মাসুদের ভূমিকা সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিল। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগের মূল নির্দেশদাতা ছিলেন মাসুদ।
মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়, বরং বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে তিনি গঠিত ‘ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাচারের মামলা দায়ের হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে গুলিতে ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মাসুদ অন্যতম আসামি। আদালতে তাকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় জনতা ক্ষোভ প্রকাশ করে ময়লা পানি ও পোড়া মবিল নিক্ষেপ করে।
গত ২৩ মার্চ রাতে বারিধারার ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরদিন মানবপাচার মামলায় পল্টন থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাঁচদিনের রিমান্ডে পুলিশ তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও মানবপাচার সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ডে দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের অন্ধকার অধ্যায় উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে পুলিশের আশা।









