মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তীব্রতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দাম সামান্য কমলেও, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকার কারণে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে দাম চড়া থাকবে।
বৈশ্বিক তেলের বাজারের চিত্র
বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শুক্রবার ভোরে ১০৮ ডলার এবং মার্কিন ক্রুড ডব্লিউটিআই ৯৪.৬ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার অতিক্রম করেছিল। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানালেন যে তারা ইরানের প্রধান জ্বালানি স্থাপনায় নতুন হামলা চালাবে না, যা দামকে সামান্য স্থিতিশীল করেছে।
কারণসমূহ ও হুমকি
ইরানের সাউথ পার্স ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার জবাবে কাতারের রাস লাফান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রেও পাল্টা হামলা চালানো হয়। হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, টানা ১৯ দিন ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রণালি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় আর ফিরে যাবে না।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী বিঘ্ন থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১৪৭ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি, যদি প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহ দুই মাসের বেশি সময় কম থাকে এবং পুনরায় খোলার পর উৎপাদন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল সীমিত থাকে, তবে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দাম প্রায় ১১১ ডলার হতে পারে।
সম্ভাব্য ইতিবাচক পরিস্থিতি
গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, যদি এপ্রিল থেকে প্রণালির তেলের প্রবাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭০ ডলার পর্যন্ত নামতে পারে। তবে এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
কাতারের ক্ষতি
রাস লাফান পরিচালনাকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে সরবরাহকে প্রভাবিত করবে।









