ঢাকা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত—নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’ হিসেবে। এই নামকরণ করা হয়েছে সীমান্তে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে। ফেলানী খাতুনের মৃত্যু বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। তাই তার নাম স্মরণ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, যা শহরের কেন্দ্রস্থলে চলাচলরত মানুষের কাছে এই স্মৃতিকে জীবন্ত রাখবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন বিকেল ৪টায় এই সড়কের নতুন নামের ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
ডিএনসিসি আশা করছে, ফেলানী অ্যাভিনিউর নামকরণ কেবল কিশোরীর স্মৃতিকে সম্মান জানাবে না, বরং নতুন প্রজন্মকে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করবে। সড়কটি শহরের একটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই নামের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং এর মাধ্যমে ফেলানীর জীবন ও তার বিস্মৃতিহীন ত্যাগের গল্প সমাজে চিরস্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
চলমান প্রস্তুতি ও সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে সড়কটি কিছু সময়ের জন্য যানজটমুক্ত রাখা হবে। ডিএনসিসি আশা করছে, বিজয় দিবসের দিন এই অনুষ্ঠান নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং শহরের মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মূল্যের পুনঃস্মরণ ঘটাবে।









