নীলফামারীর ডিমলায় এখনো পুরোপুরি ধান কাটা শুরু না হলেও আগাম জাতের আমন ধান কাটছেন কৃষকেরা। এতে আমন ধান রোপণ শেষে কর্মহীন থাকা প্রান্তিক কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৪৩৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। চলতি বছরে কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল স্বর্ণা, পটলপারি, হাইব্রিড পেজ, বিনা ১৭ এবং বিরিধান-৭৫ জাতের ধান বেশি চাষ করেছে।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চর কিসামত, চর খড়িবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠে মাঠে আগাম জাতের রোপা আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। ফলনও হয়েছে বেশ। আগাম জাতের ধান কাটতে ও ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ কেউ তিস্তার পাড়ে উঠান বানিয়ে ধান মাড়াই করছেন।
কৃষকরা জানান, চলতি বছর প্রতি বিঘায় আগাম জাতের রোপা আমন ধানের উৎপাদন হয়েছে ১২-১৪ মণ। খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায়। সে হিসেবে উৎপাদিত ধান বিক্রি করা হচ্ছে ১৩ হাজার টাকার মতো। আমন ধান ঘরে তুলে সেই জমিতে আগাম আলু চাষের সুযোগ পাবেন কৃষকেরা।
কৃষক নূর রহমান জানান, এ ধান চাষ করে তিনি একই জমি থেকে চারটি ফসল তুলতে পারছেন। সাধারণ জাতের আমন ধান না পাকলেও বিনা জাতের ধান কাটতে পারছেন। আগাম জাতের আমন ধান বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন। এরপর সরিষা আবাদ করবেন। সরিষা কেটে অল্প সময়ের জন্য ওই জমিতে পাট শাক করতে পারবেন। এভাবে একই জমিতে ৪ ফসল করে তারা লাভবান হচ্ছেন।
কৃষক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, এখনো পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হয়নি কিছু আগাম জাতের ধান এসেছে সেইগুলো কাটছেন আরও কিছুদিন পরে বাকি ধান পাকা শুরু হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলি জানান, চলতি বছর স্বপ্লমেয়াদী নতুন ধান সম্প্রসারণ করেছে। নতুন জাতের ধানগুলো রোপণের পর মাত্র ৯০-১০০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পেকে যায়। অথচ প্রচলিত জাতের ধানগুলো রোপণের প্রায় ১৪০-১৬০ দিন পরে অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বরে পাকে। তিনি আরও বলেন, নতুন জাতের ধান আগেভাগে কাটা যায়। এতে কৃষক ২ মাস আগেই তাদের জমি খালি পেয়ে যান। ফলে তারা আগাম জাতের আলু কিংবা অন্য যেকোনো রবি ফসল আবাদ করতে পারেন। পরে তারা ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অধিকতর লাভবান হতে পারছেন।









