করোনার প্রভাবে বিশ্বে বড় আকারের দুর্ভিক্ষ হতে পারে এবং এতে প্রায় তিন কোটি মানুষ অনাহারে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
তবে বিশ্বের এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে খাদ্যশস্যের কোনো সংকট নেই। আগামীতেও যাতে খাদ্যের কোনো সংকট না হয় সেজন্য সরকারি গুদামেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত করছে সরকার।
জানা যায়, ইতোমধ্যে পূর্ব নির্ধারীত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত দুই লাখ মেট্রিকটন চাল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস হতে সংগ্রহ করছে সরকার। পাশাপশি দেড় লাখ মেট্রিক গম দেশের বাইরে থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা জুলাইয়ের মধ্যে সে গম এসে পৌঁছাবে দেশে।
এদিকে করোনায় দেশে খাদ্য নিরাপত্তা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ ব্যবস্থা আরও উন্নয়ন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ জানান, যখন নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠি কোনো আপদকালীন সময়ে সমস্যায় পড়ে যায় মূলত: তাদের সহযোগিতার জন্যই সরকার খাদ্যশস্য মজুত রাখে। এবার একটু বেশি বেশি পরিমাণ চাল ক্রয় করা হচ্ছে কারণ কৃষক যাতে নায্য মূল্য পায় পাশাপশি করোনাকালীন সময়ে কোনো ধরনের খদ্য সংকট না হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে পর্যন্ত সময়ে খাদ্যশস্যের সরকারি গুদামজাতকৃত মোট মজুত ১২ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চাল ৯ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন এবং গম ২ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর একই সময়ে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য মজুত ছিল ১২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। অর্থৎ গত বছরের তুলানায় বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য ৩৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি রয়েছে।
অন্যদিকে, গত আমন মৌসুমে এক কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি বোরোতে আমরা দুই কোটি মেট্রিক টনের বেশি ফলন আশা করছে সরকার। তাই সংকট বা দানা জাতীয় খাবারের সংকট হবে না বলে আশা করছে সরকার।এ ছাড়া আলু, শাকসবজি, তেলবীজসহ বেশির ভাগ পণ্যেই বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে খাদ্যসংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
আনন্দবাজার/রনি









