লকডাউনের প্রভাবে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে অপরাধ। একই সাথে কমেছে থানায় মামলা রেকর্ড ও ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও। তবে ঘরবন্দি থাকায় বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা। শুধু বাংলাদেশ নয়, অপরাধের এমন চিত্র সারাবিশ্ব জুড়েই।
এদিকে, এমন পরিস্থিতি কতদিন বজায় থাকবে সেটা নিয়েও সন্দিহান সমাজ বিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। ফলে ঘরবন্দি বেশির ভাগ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে মানুষের চলাফেরা কম এবং বেশির ভাগ সময় ঘরে থাকায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে। তবে ঘরে অবস্থানের ফলে নারী ও শিশুর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে।
তবে সার্বিক অবস্থার উন্নতি না হলে অপরাধ প্রবণতা কমে যাওয়ার এই চিত্র যে কোনো সময় পাল্টে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত বছর ঢাকায় ২০৮টি খুনের ঘটনা ঘটে। এ বছরের প্রথম দুই মাসে ঘটেছে ২১টি খুনের ঘটনা। আর করোনাকালে মার্চে ১৭টি ও এপ্রিলে ৮টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে ২০১৯ সালে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছিল ১৭৬টি। কিন্তু এ বছরের প্রথম তিন মাসে ৫৩টি ডাকাতি ও দস্যুতা সংঘটিত হয়েছে। এপ্রিলে এই সংখ্যা কমে এসেছে ৬টিতে। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে চুরির ঘটনা ঘটেছে ৫৪৯টি। আর এপ্রিলে ৪৬ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও কমে এসেছে। গত বছর ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ২ হাজার ৪০৮টি। এ বছরে এপ্রিলে ঘটেছে ৪৯টি।
করোনা পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুর প্রতি বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে ৪ হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৪৬ জন শিশু এই সহিংসতার শিকার। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৭২ জন নারী ও ৪২৪ জন শিশু নতুন এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে ৩৩টি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আমেরিকার অন্যতম সহিংস শহর শিকাগোতে গত কয়েক সপ্তাহের মাদক সংক্রান্ত অপরাধ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে ৪২ শতাংশ ।
আনন্দবাজার/রনি









