২০২৫ সালে ৭.৫ থেকে ১০ শতাংশ দখলের লক্ষ্য
মেইড ইন বাংলাদেশ উইক
- থাকবেন ৪০ দেশের ১৫০ ডেলিগেট
- বিশ্ব ব্র্যান্ডিংয়ের আশাবাদ
করোনা মহামারীর পর রাশিয়ান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যেই আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকখাত। নীতি সহায়তা পেলে আগামীর দিনগুলোতে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার কথা বলছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ২০২২ সালে বিশ্ব বাজারে আমাদের শেয়ার ৭.৫ শতাংশ অতিক্রম করবে বলে আশা করি। আর ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই শেয়ার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী ১২-১৮ নভেম্বর ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন এবং মেইড ইন বাংলাদেশ উইক ২০২২ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আইএএফ এর মহাসচিব ম্যাথিয়াস ক্রিয়েটি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
টেকসই শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিজিএমইএ ইতোমধ্যেই ২০৩০ সাল নাগাদ পোশাক শিল্পে কার্বন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বিজিএমইএ কাজ করছে বলে জানান ফারুক হাসান। তিনি বলেন, এই অর্থবছর শেষে আমাদের রপ্তানি ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। শিল্পের ভাবমূর্তি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থাটি। যার জন্য ব্র্যান্ডিং এ একাধিক উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ও সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন (আইএএফ), বিজিএমইএ এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সহযোগিতায় এই কনভেনশনের আয়োজন করবে।
এতে ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন এবং মেইড ইন বাংলাদেশ উইকের লোগোও উন্মোচন করেন। আইএএফ কনভেনশনটি ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে প্রথম দিনে আইএএফ এর বোর্ডের সব পরিচালকের অংশগ্রহণে একটি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনের অংশ হিসেবে একটি দিনব্যাপী সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বক্তারা অংশগ্রহণ করবেন।
এতে ব্র্যান্ড, রিটেইলার, সরবরাহকারীরা (সাপ্লায়ার্স), শিল্প নেতা এবং একাডেমিক সহ বক্তারা ব্যবসার বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধানগুলোর উপর আলোকপাত করবেন। যার উদ্দেশ্য হবে সকলের জন্য একটি উত্তম ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি নিশ্চিত করা।
বাৎসরিক ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন ৪০টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী পোশাক শিল্প সমিতি, নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারসহ আইএএফের সদস্যদের একত্রিত করবে। কনভেনশনটি প্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিল্পের ভবিষ্যত দিক বিষয়ে ধারণা প্রদানে সহায়তা করবে।
‘দি মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ এর লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিবাচক, বিশেষ করে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন তুলে ধরা। সেইসাথে শ্রমিকদের কল্যান প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিল্প যে অনন্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেগুলো উপস্থাপন করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পোশাক শিল্পকে তুলে ধরা।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উৎসাহব্যাঞ্জক গল্পগুলো বলার পাশাপাশি এ শিল্পের সম্ভাবনা, শিল্পের শক্তি, সক্ষমতা তুলে ধরা। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের কাছে অগ্রাধিকার পাওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে পছন্দসই থাকার জন্য শিল্পের ভবিষ্যত অগ্রাধিকারগুলো বৈশ্বিক ক্রেতা এবং বিশ্ববাসীর মাঝে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে- ৩৭তম আইএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন। তৃতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিট। পোশাক প্রদর্শনী, ডেনিম এক্সপো। সাসটেইনেবল ফ্যাশন এ্যাওয়ার্ড এবং ফ্যাশন ফট্রোগ্রাফী এ্যাওয়ার্ড এর মতো পুরস্কার অনুষ্ঠান। ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক উৎসব, বিজিএমইএ ইনোভেশন সেন্টার এর গ্লোবাল লঞ্চিং।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘যেহেতু আমরা নির্দিষ্ট মাত্রার প্রবৃদ্ধি এবং গতি অর্জন করেছি, তাই এখন আমাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সময় এসেছে। আমাদের অগ্রগতি এবং সম্ভাবনাগুলো পাশ্চাত্যের কাছে আমাদেরকে অন্যতম সাসটেইনেবল সোর্সিং পার্টনার করে তুলেছে এবং এই অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমাদেরকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন আরও টেকসই উৎপাদন ও সোর্সিং নিশ্চিত করতে ক্রেতা, সরবরাহকারী ও বৈশ্বিক স্টেকহোল্ডারসহ সরবরাহ চেইনের মূখ্য ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে একটি বৃহত্তর সহযোগিতা গড়ে তোলার সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক’ টেকসই এবং প্রতিযোগিতামূলক শিল্প হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করতে ব্যবসায়িক সক্ষমতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টাগুলো অব্যাহত রাখবে। তা বিশ্বকে বলার জন্য আমাদের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেবে। কাঁচামাল সংকট, জ্বালানি তলে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, কন্টইেনার ও জাহাজভাড়া অস্বাভাবকি বৃদ্ধি ঘটেছে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
আইএফএর মহাসচিব ম্যাথিয়াস ক্রিয়েটি বলেন, ‘সম্ভবত আগের যে কোনো সময় থেকে পোশাক প্রস্তুতকারকরা এখন শিল্প রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যা আমাদের দরকার। তাই, ৩৭তম আইএএফ ওয়ার্ল্ড ফ্যাশন কনভেনশন উপস্থাপিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে, বাংলাদেশি পোশাক শিল্প, শিল্পের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর সমাধানের উৎস হিসেবে নিজেকে তুলে ধরবে।
বিজিএমইএ এর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি মিরান আলী, সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক ব্যারিস্টার শেহরিন সালাম ঐশী, পরিচালক আসিফ আশরাফ, পরিচালক খসরু চৌধুরী, পরিচালক ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক ইনামুল হক খান (বাবলু), পরিচালক ইমরানুর রহমান, পরিচালক হোসনে আরা নীলা, বিকেএমইএ এর সহ-সভাপতি আখতার।
উল্লেখ্য, কারখানাগুলো শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের উত্তম চর্চা(গুড প্রাক্টিসেস) হয়ে থাকলেও, তা বেশিরভাগ সময়ই প্রচার পায় না বলে জানায় বিজিএমইএ। ফলে এসব উত্তম চর্চার তথ্য সংকলন করে একটি ‘কফি টেবিল বই’ আকারে মেইড ইন বাংলাদেশ উইকে উন্মোচন করা হবে। দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয়ে সংকলন আকারে ‘কালারস অব বাংলাদেশ’ নামে আরও একটি কফি টেবিল বই উন্মোচন করা হবে।
আনন্দবাজার/শহক









