- টপটেন গেইনার তালিকায় শতভাগ ‘এ’ ক্যাটগরি
- লুজার তালিকায় ৩০ ভাগ ‘বি’ ক্যাটাগরির
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে ঝুঁকিরমাত্রা আগের তুলনায় কমেছে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ওই সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় শত ভাগই ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। ওই সপ্তাহে টপটেন লুজার তালিকায় ৫০ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট। এছাড়া লুজার তালিকায় ৩০ শতাংশ ‘বি’ এবং ২০ শতাংশ ‘জেড’ক্যাটাগরি শেয়ারের অবস্থান করেছে। এই ধরনের চিত্র, সবাই স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ক্যাটগরির থেকে তুলনামূলক ভালো বিধায় নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ক্যাটগরির কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ৬১ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য পিই রেশিও এক ঘরের সংখ্যা নিরাপদ। এই নিরাপদ সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত ধরা যেতে পারে। তবে ১৫ সংখ্যার ঊর্ধ্বে চলে গেলে বিনিয়োগে ঝুঁকিরমাত্রা বাড়তে থাকে। ডিএসইর পিই রেশিও বর্তমানে ১৭ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা নিরাপদ অবস্থানে এখনো আসেনি। ডিএসইতে বিনিয়োগ মাত্রা কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৮ পয়েন্টে। এছাড়া বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের ১১ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ১২ দশমিক ১০ পয়েন্টে, বিবিধ খাতের ১৪ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতের ১৭ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, ওষুধ রসায়ন খাতের ১৯ দশমিক ১০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৯ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, বীমা খাতের ২০ দশমিক ১০ পয়েন্টে, খাদ্য খাতের ২১ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতের ২১ দশমিক ৫০ পয়েন্টে, সেবা আবাসন খাতের ২৪ দশমিক ৮০ পয়েন্টে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৫ দশমিক ৫০ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতের ৩২ দশমিক ৫০ পয়েন্টে পিই রেশিও অবস্থান করছে।
অন্যদিক, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৫টির বা ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ক্যাটাগরির ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ওই সপ্তাহের লেনদেনে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ২১ দশমিক ৪৭ টাকা। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে তালিকার শীর্ষে উঠে আসে। ওই সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৯৭টির বা ৭৭ দশমিক ৩৪ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ওয়ান ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম লক্ষ্য করা গেছে। ওই সপ্তাহের লেনদেনে ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২১ দশমিক ৩১ টাকা। এ কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।
ওই সপ্তাহে টপটেন গেইনারের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনালি পেপার ১৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, লিবরা ইনফিউশন ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফরচুন সুজ ১৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, রেকিট বেনকিজার ১৫ দশমিক ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ, এপেক্স ফুটওয়্যার ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ, রহিম টেক্সটাইল ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ইউনিভার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, প্রান ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ফার্মা এইড ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে। টপটেন গেইনারের সবকটিই ‘এ’ক্যাটাগরির শেয়ার।
ওই সপ্তাহে টপটেন লুজারের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আনলিমা ইয়ার্ন (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টস ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্স (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট (‘জেড’ ক্যাটাগরি) ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, এস কে ট্রিমস ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, মিথুন নিটিং (‘জেড’ ক্যাটাগরি) ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, কাট্রালি টেক্সটাইল ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং ৮ দশমিক শূন্য২ শতাংশ এবং এনটেক (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
আনন্দবাজার/শহক









