দেশে গমের আমদানি ও মজুদ দুটোই যথেষ্ট। তাছাড়া করোনার কারণে খাদ্য শিল্প ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ থাকায় সেখানেও তেমন একটা চাহিদা নেই। যেটুকু রয়েছে, তা প্রান্তিক পর্যায়ে। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রান্তিক পর্যায়ের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে তুলছেন মজুদদার ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।
চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি)শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে গম আমদানি হয়েছে ৫০ লাখ টন। এছাড়া স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ ছাড়াও স্থলবন্দর দিয়েও ভারত থেকে গম আমদানি হয়েছে কয়েক দিন আগে পর্যন্ত। আর এ সময় দেশে গম আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ। এর পরেও সংকটের অজুহাত তুলে গত এক সপ্তাহে নিয়মিতভাবেই পণ্যটির দাম বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরেই খাতুনগঞ্জে ডিও পদ্ধতিতে কেনাবেচা হওয়া গমের দাম নিয়মিত বেড়েই চলছে। মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ৭০-৮০ টাকা করে দাম বেড়েছে আটা-ময়দা তৈরির মূল উপাদানটির। ফলে ফ্লাওয়ার মিলগুলোও এখন আটা-ময়দার দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করছে, খাতুনগঞ্জে বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৫ টাকায় আর প্যাকেট ময়দা কোম্পানিভেদে ৪২ থেকে ৪৮ টাকায়। এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৭ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে এবং ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৮ টাকা দরে।
এদিকে বিশ্ববাজারেও গমের দাম অনেক দিন যাবত নিম্নমুখী রয়েছে। ফলে গত অর্থবছরের চেয়েও টনপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা কম দামে গম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশ্ববাজারে এক মাসের ব্যবধানে ৪ শতাংশের বেশি দাম কমলেও দেশের বাজারে আমদানিকারকরা শূন্য শুল্কের নিত্যপণ্যটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।
আনন্দবাজার/শহক








