- ঢালাও সুবিধাতেও বেড়েছে খেলাপি
- এক বছরে বাড়লো ১৪৫৪০ কোটি টাকা
- বেসরকারিতে বেড়েছে ৫১৫২১ কোটি টাকা
- বিদেশি ব্যাংকে ২৭৮৫ কোটি টাকা
করোনার কারণে ঋণ পরিশোধে ছিল বিশেষ সুবিধা। গেল বছরও এ সুবিধা দেয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমাতে গণছাড়েও খেলাপি ঋণ কমাতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২০ ডিসেম্বর শেষে দেশের খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।
করোনা কারণে ২০২০ সালে ঋণ পরিশোধ না করলেও কোনো গ্রাহককে খেলাপি করা হয়নি। ফলে বছর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকায়, যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধার ছাড় কিছুটা কমিয়ে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনার বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই খেলাপি হবেন না গ্রাহক। এরপরও ঋণ খেলাপি বাড়তে থাকে।
গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। পরে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ২০২১ সালে একজন ঋণ-গ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলে গ্রাহক খেলাপি হবেন না। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া নির্দেশনা আলোকে কেউ ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঋণের ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেও গ্রাহক খেলাপি হননি। তারপরও আশানুরূপ খেলাপি ঋণ কমাতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ডিসেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণ বিতরণ করে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৯ লাখ ৭০ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বা ৫১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপি ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০২ শতাংশ। তারা মোট ৩৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। এর পরের বছর ২০১৮ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ছিল ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা এবং ২০২০ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এ নিয়ে গত পাঁচ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৮ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।
খেলাপি ঋণ বাড়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এগুলো কেউ মানছে না।









