সৌদির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি আরামকো আগামী মে মাসের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইসিং (ওএসপি) ঘোষণা করেছে। দেশটি এতদিন জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসসংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তোলন হ্রাসের চুক্তিতে পৌঁছেছে ওপেক এবং নন ওপেক দেশগুলো। এর পর পরই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওএসপি কমিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। কিন্তু এ সময় ইউরোপের দেশগুলোর জন্য আগের নির্ধারিত দামে পণ্যটি বিক্রি করবে দেশটি। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সৌদি আরব জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে।
আরামকো আগামী মে মাসের জন্য প্রতি ব্যারেল তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে ৭ ডলার ৩০ সেন্ট, এপ্রিলের তুলনায় যা ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ২০ সেন্ট কম।
মধ্যপ্রাচ্য বেঞ্চমার্কের পরে এশিয়ার জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো টানা তিন মাসের মতো আগামী মে মাসেও জ্বালানি পণ্যটির ওএসপি কমিয়ে আনার জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ করেছিল। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপক হারে কমে গেছে। চীন ও ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোয় এ সংকট আরো ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে এ অঞ্চলের খাতসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো জ্বালানি পণ্যটির পরিশোধন কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।
অপরদিকে সৌদি আরামকো মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পণ্যটির দামে ডিসকাউন্ট দিয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট। ফলে দেশটির ব্যবসায়ীরা এপ্রিলে যে দামে আরব লাইট ক্রুড কিনেছেন, মে মাসে তার চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার বেশি দিতে হবে। অন্যদিকে সৌদি কোম্পানিটি উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের জন্য মে মাসে পণ্যটির ওএসপি এপ্রিলের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ইউরোপের বাজারে এপ্রিলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যে ১০ ডলার ২৫ সেন্টের বিশেষ মূল্যছাড় দেয়া হয়েছিল।
এশিয়ার বাজারে জ্বালানি পণ্যটির ওএসপি কমিয়ে আনায় এটাই প্রতিফলিত হয়, অঞ্চলটিতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা খুবই দুর্বল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জ্বালানি তেলের ওএসপি বৃদ্ধি বা ইউরোপের জন্য অপরিবর্তিত রাখার মধ্য দিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাস চুক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।
আনন্দবাজার/এফআইবি








