সুন্দরবনে বনজদ্রব্য আহরণ সংকুচিত, চাহিদা হ্রাসসহ নানামুখি সংকটে খানিকটা অনাগ্রহের মধ্যেই পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জ’র একটি কুপে গোলপাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাওয়ালীরা।
বনবিভাগ সূত্র ও বাওয়ালীরা জানান, ক্রমশ গোলপাতার চাহিদা হ্রাস ও সুন্দরবনকে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত হওয়ায় সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বাওয়ালীরা। আহরণের ভরা মৌসুমেও এবার বাওয়ালীদের বিএলসি (অনুমতি) দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল বনবিভাগ। ফলে খানিকটা দেরিতে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কুপ (জোন) ব্যবসায়ীরা পারমিট গ্রহণ করে গোলপাতা আহরণে সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছেন বাওয়ালী ও এর উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। যদিও বনের উপর চাপ কমাতে বনজদ্রব্য আহরণ সঙ্কুচিত করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছে বনবিভাগ।
পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের গোলপাতা কুপ কর্মকর্তা নির্মল কুমার মন্ডল বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জের একটি গোলপাতা কুপে প্রম দফায় ৭৪ হাজার ৭০৫ মণ গোলপাতা কাটার পারমিট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তার মধ্যে প্রথম দফায় গোলপাতা সংগ্রহে ১১৮টি বিএলসির অনুকুলে বাওয়ালীরা ৫৮ হাজার ৬৬০ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) নিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি েেক এ সকল বিএলসির অনুকুলে পারমিট দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সে অনুযায়ী গোলপাতা আহরণ চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
খুলনা রেঞ্জের সহযোগি গোলপাতার কুপ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য নিয়মিত কুপের পক্ষে থেকে তদারকি করা হচ্ছে। তবে নানা সংকটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ারও আশংকা করেন তিনি।
খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, বাওয়ালীরা যাতে নির্বিঘ্নে গোলপাতা কাটতে পারেন তার জন্য বনবিভাগের পক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বনবিভাগ ও বাওয়ালীদের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে বাওয়ালীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে নিয়ম মাফিক গোলপাতা আহরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আনন্দবাজার/শহক









