বসন্ত-ভালোবাসায় রাঙাবে গোলাপ গ্রাম
বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস মানেই ফুল। আর সেই ফুলের স্বর্গ রাজ্যের ঠিকানা সাভারের বিরুলিয়া। গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া আকাবাকা পথের দুপাশে গোলাপের বিস্তীর্ণ বাগান। সে কারণে এ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম মিলেয়ে নাম দেওয়া হয়েছে গোলাপ গ্রাম। তবে করোনার মহামারির ক্ষত কাটিয়ে উঠার আগেই এবার ছত্রাকের আক্রমনের কবলে পড়েছে চাষিরা। আক্রমনে গোলাপ গাছের কলি, ডগা মরে ঝড়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও গাছের পাতা ও কলির পাপড়ি কালো হয়ে ঝড়ে গেছে। তবুও অতিরিক্তি পরিচর্যা দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে রাঙাতে ব্যস্ত সময় পার করছে গোলাপ গ্রামের চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাভারের বিরুলিয়া সড়ক দিয়ে কমলাপুর এলাকায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে গোলাপের বিস্তীর্ণ গ্রাম। ক্ষেতের আইলের দিকে তাকালে যতদূর চোখ যাবে গোলাপে ঢাকা চারপাশ। এ এক অন্যরকম সৌন্দর্য, মুগ্ধ করে সবাইকে। তাই তো সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসে দুর দুরান্ত থেকে সব বয়সী লোকজন। কেউ দলবেঁধে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। আবার কেউ কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। তবে সবচাইতে চোখে পড়ে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা। কারো হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ। আবার কারও মাথায় গোলাপের টয়রা। দেখে মনে হচ্ছে গ্রাম জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের।
এদিকে গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি ফুলের দোকান। সেখানেই ফুল দিয়ে মালাগাঁথার কাজ করছেন কেউ কেউ। ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের কাছে বিক্রি করা হবে সেই ফুল।
গোলাপ গ্রামে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, সোমবার (আজ) ভালোবাসা দিবস। তাই আমরা কয়েকজন বন্ধুরা মিলে উত্তরা থেকে এখানে এসেছি। একসঙ্গে এতোগুলো গোলাপ বাগান দেখে আমরা খুবই আপ্লুত। এখান থেকে যাাওয়ার সময় আমরা সবাই গোলাপ নিয়ে যাবো।
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে আসা রাকিবুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, তার বাসা সাভারেই, সে কারণে তিনি এখানে এর আগেও এসেছেন। তবে তার সঙ্গে আসা তার প্রিয় মানুষটির বাড়ি ফরিদপুরে। গোলাপ গ্রামের চোখজুড়ানো বাগান দেখে সে অনেক আনন্দিত।
গোলাপ গ্রামের চাষি রুহুল আলম বলেন, প্রতিবছরে ভালোবাসা দিবস, ভাষা দিবসহ বিভিন্ন দিবসে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এখানকার গোলাপ ঢাকা ও আশপাশের এলাকার চাহিদা পূরণ করে। সাধারণ সময়ে গোলাপের দাম কম থাকলেও এসব দিবসগুলোতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন তারা।
করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য এবারের ভালোবাস ও ভাষা দিবসে তাদের লক্ষ্য ছিল। তবে ছত্রাকের আক্রমনে তাদের সেই স্বপ্নে আঘাত হেনেছে। তবুও বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা মেটানোর জন্য অতিরিক্ত পরিচর্যা করছেন তারা।
সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, অধিকাংশ কৃষকরা তাদের বাগানে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়ে ছত্রাকের আক্রমণ হয়েছে। আবার এ বছর আবহাওয়া খারাপের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে বৃষ্টিও হয়েছে। এসব কারণে গোলাপ বাগানে ছত্রাকের আক্রমন হয়ে থাকতে পারে। তবে আগাছামুক্ত করে গোলাপ গাছের গোড়া মাটি আলগা করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার কথাও বলেছেন তিনি জানান।









