এক হাজার কোটি টাকার বাজার
- অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৭৫ ভাগ সরবরাহ
- সাশ্রয় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা
- ভারত, নেপাল ও ভুটান যাচ্ছে এখানে তৈরি যন্তপাতি
উত্তরাঞ্চলীয় জেল শহর বগুড়ায় গড়ে উঠেছে কৃষি যন্ত্রপাতির সমৃদ্ধ এক বিশাল অনানুষ্ঠানিক শিল্পাঞ্চল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানকার শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত হরেক রকমের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ। বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে সাত মাথা বলে পরিচিত প্রধান চত্বরের খুব কাছেই শ’খানেক ছোট ছোট কারখানায় তৈরি হচ্ছে কৃষি যন্ত্রপাতি। একই ধরনের পণ্য তৈরি হচ্ছে ষ্টেশন রোডের প্রায় ৭০টি কারখানায়।
বগুড়া বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক একে এম মাহফুজুর রহমান বললেন, ১৯৬৪ সাল থেকে এ শিল্প নগরী গড়ে উঠেছে। বিসিক শিল্পনগরী ও এর বাইরে মোট ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, ভুটানেও এখানকার তৈরিকৃত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। নিয়মিতভাবে এ সব শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। শিল্পনগরী কর্মকর্তাসহ এর অধীনে ১২ জনের একটি টিম রয়েছে। তাদের তত্ত¡াবধানে মনিটরিং চলে।
২০১৯-২০ সালে একশ তেষট্টি কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব হয়েছিল। করোনাকালীন এ বছর রাজস্ব একটু কম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের প্রণোদনা বাবদ বিশ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। এ প্রণোদনা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ শিল্প উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এখানকার এ শিল্প বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশের শতকরা ৭৫ ভাগ চাহিদা মেটায়। যার বার্ষিক বিপণন মূল্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি। সেই সাথে ৫‘শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ও করে উত্তরাঞ্চলীয় এ জেলা শহরটির হালকা প্রকৌশল খাত।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রিয় কমিটির পরিচালক আলহাজ জিল্লার রহমান বলেন, আমাদের এ শিল্পের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা চাহিদা সত্বেও উৎপাদন করতে পারছি না। গত সাপ্তাহে যে দামে কাঁচামাল ক্রয় করা হয়েছিল চলতি সপ্তাহে সেই কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। প্রতিদিন আমার ১৪ টন স্ক্র্যাব প্রয়োজন। ১৪ টনে ১৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা ক্রেতাদের কাছ থেকে আমি বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, কাঁচামালের দাম এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে হয়তো এ ব্যবসা চীনের দিকে চলে যাবে।
এ শিল্পের কাঁচামাল পুরনো লোহা, ঢালাই রড, নষ্ট তৈজসপত্র, শ্যালো ও পাওয়ার টিলারের অকেজো যন্ত্রাংশ, জাহাজের অংশ, লোহার টুকরো গলিয়ে, পাওয়ার টিলারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ফলা, শ্যালো মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং পাম্পসহ বিভিন্ন মেশিনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়।
স্টেশন রোডের আল মদিনা মেটাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবস্থাপক মো. সুজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, স্থানীয় জনবল দিয়ে এ ক্ষুদ্র শিল্পটি গড়ে উঠেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কারো তেমন নেই। কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা হয়েছে। ছোট থেকে কাজ করে আজ অনেকেই মিস্ত্রি হয়ে গেছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের আরো প্রসার হবে। ব্যবসায়ী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে তেমন কোন চাপ নেই। কাজ কর্ম না থাকায় কাঁচামালের চাহিদাও কম। টুকটাক স্থানীয় ক্রেতাদের অর্ডার রয়েছে কিছু।
দেশের ৮০ শতাংশ কৃষি যন্ত্রপাতির চাহিদা পূরণ করে বগুড়া। এখানে প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি তৈরি হয়। এসব যন্ত্রপাতি তৈরিতে বগুড়ায় গড়ে উঠেছে উন্নতমানের ফাউন্ড্রি শিল্প। ভারত, চীনেও প্রথমে ফাউন্ড্রি শিল্পকে উন্নত করে ভারি শিল্পের প্রসারে পৌঁছেছে। এ ধারায় কৃষি যন্ত্রপাতির বাজারকে আরও সমৃদ্ধ করতে বগুড়ায় ফাউন্ড্রি শিল্পের ব্যাপ্তি ধীরে ধীরে বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আনন্দবাজার/শহক








