- রংপুরে গ্যাস সরবরাহের কাজ ৫০ শতাংশ সম্পন্ন
- ঘুরবে অর্থনীতির চাকা
- অপেক্ষায় শিল্পোদ্যোক্তারা
সেইদিন আর বেশি দুরে নয়, আগামী বছরের জুন মাস নাগাদ রংপুরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে এ অঞ্চলে শিল্প বিপ্লব ঘটবে-এমন স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত প্লট ক্রয় করে গ্যাসের জন্য শিল্পোদ্যোক্তারা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তারা বলছেন, এতদিন ধীরগতির কারণে বহুল প্রতীক্ষিত গ্যাস নিয়ে স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছিল। গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এখানে ভারি শিল্প ও কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। এবারে সেই স্বপ্ন হয়তো পূরণ হবে।
গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল) সূত্রে জানা যায়, বগুড়া থেকে পীরগঞ্জ হয়ে রংপুর ও সৈয়দপুর পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এ প্রকল্প ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এক হাজার ৩৬৮ কোটি ৫২ লাখ ব্যয় হবে এ প্রকল্পে। জিটিসিএল এখানে ১০ কোটি তিন লাখ টাকা খরচ করবে। বাদবাকি টাকা দেবে সরকার। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য ৩০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া হুকুম দখল করা হয়েছে ৫৭৬ দশমিক ৩৭ একর জমি। ৩০ ইঞ্চি ব্যসার্ধে ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এ গ্যাস সরবরাহে ছয়টি নদী ও দুইটি খাল পাড়ি দিতে হবে। এসব নদী ও খালের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটার। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর এলাকায় দেখা গেছে গ্যাস সরবরাহ লাইনের কর্মযজ্ঞ। প্রাথমিকভাবে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে। বাসা-বাড়িতে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নাও হতে পারে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রথম থেকেই শিল্প-কারখানার পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ করা হোক। এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় কারা কারা গ্যাস পাবেন এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রংপুর বিভাগে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা আনিন্দিত। রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এ অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের। পিছিয়েপড়া অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ হলে নতুন নতুন শিল্প-কারাখানা এবং বিসিক এলাকার শিল্পকরখানার পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে নতুন গতি পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। দূর হবে দারিদ্র্যতার বৈষম্য। রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অনেক দেশি-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তা শিল্প প্লট ক্রয় করে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। রংপুর মেট্রাপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, গ্যাস এলেই এ অঞ্চলে শিল্পবিপ্লব ঘটবে। এছাড়া প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় এক হাজার একর জমির উপর বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও রংপুরের সকল উপজেলার শিল্পকারখানায় পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।









