জ্বালানি তেল সংকটের কবলে পড়েছে রংপুর বিভাগের ৮ জেলা। ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিন থাকলেও দেখা দিয়েছে পেট্রল সংকট। ডিপো পর্যায়ে সরবাহ কমে যাওয়ায় চাহিদার অর্ধেক তেলও পাচ্ছেন না পরিবেশকরা। কয়েকদিন ধরে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের ২৬৫টির বেশি পাম্পের বেশির ভাগেরই পেট্রল সরবরাহ অনেকাংশেই কমে গেছে। সঠিক সময়ে তেলের ওয়াগন না আসা, মজুদ ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পেট্রল সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতা ও পরিবেশকরা বলছেন, চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রতিদিন প্রয়োজন ১০ থেকে ১৮ হাজার র্যাক জ্বালানি তেল; কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার র্যাক। এতে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
রেলওয়ের ওয়াগনে করে চট্টগ্রাম থেকে তেল আসে রংপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পদ্মা-মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে। এসব ডিপোতে প্রতিদিন আর তেল আসছে না। সপ্তাহে এক বা দুদিন তেল আসায় ট্যাংকলরির দীর্ঘ সারি ডিপোগুলোর সামনে। বিপিসির ৩টি ডিপো আছে রংপুরে। এখানে প্রতি সপ্তাহে তেলের চাহিদা ৪ র্যাক। ইদানীং এই এলাকায় তেলের সরবরাহ নেমে এসেছে এক-চতুর্থাংশে।
রংপুর জেলা ও বিভাগীয় পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও মেসার্স আব্দুল্লাহ ফিলিং স্টেশনের ব্যববস্থাপনা পরিচালক আতিক উল্লাহ জানিয়েছেন, পেট্রলের কিছুটা সংকট রয়েছে। চাহিদা মতো পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলের চাপও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, তেল মজুদসহ বিভিন্ন কারণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। তবে ইতোমধ্যে পেট্রল আমদানি হয়েছে। চট্টগ্রামে পেট্রলের জাহাজ চলে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আমরা পেট্রল পাব। যেটুকু সংকট রয়েছে তা আর থাকবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ও রংপুর জেলা পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সিলেটে গ্যাস থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন হয়ে রংপুর ডিপো এবং পাবর্তীপুর ডিপোসহ সারাদেশে যায়। বর্তমানে সিলেটে সেই তেলও উৎপাদন হচ্ছে না। এ ছাড়া আগে যে হারে তেল আসত বর্তমানে রেলওয়ের ওয়াগন সংকটের কারণে এখন দুই সপ্তাহ পর পর তেল আসছে এবং তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় পেট্রল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে রংপুর বিভাগে তেল সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে।
এ ব্যাপারে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, আমাদের প্রতি সপ্তাহে দরকার ৪ র্যাক তেল; কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ১ র্যাক। উল্লেখ্য, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের ৮ জেলায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিবেশক ও পাম্প আছে ২৩০টি।









