বাংলাদেশের মানবাধিকার, জাতীয় নির্বাচন ও সভা-সমাবেশের অধিকারকে ঘিরে বিশ্বের দুই পরাশক্তি দেশ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দুই মেরুতে থাকা এই দুই দেশই বাংলাদেশের ইস্যু নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য, বিবৃতি অব্যাহত রেখেছে। যা শুধু ঢাকাই নয়, দু’দেশের রাজধানী ওয়াশিংটন আর মস্কোতেও আলোচনার সাড়া ফেলে দিয়েছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’কে কেন্দ্র করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা মস্কোতে এক বিবৃতি দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আমরা বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যাপকভাবে প্রচারিত ঘটনাটি লক্ষ করেছি। যার নিরাপত্তা একটি স্থানীয় সরকারি সংস্থার কর্মীদের হুমকির মুখে পড়েছিল ১৪ ডিসেম্বর। এ ঢাকায় একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থকের পরিবারের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ব্যাপার ছিল। সমর্থকটি ২০১৩ সালে নিখোঁজ হয়েছিল। এই ঘটনাটি আমেরিকান কূটনীতিকের কার্যকলাপের একটি প্রত্যাশিত ফলাফল। কেননা যিনি বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকারের যত্ন নেওয়ার অজুহাতে ক্রমাগতভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ব্রিটিশ এবং জার্মান কূটনৈতিক মিশনের তার সহকর্মীরা একই কারণে নিযুক্ত ছিলেন এবং পরের বছরের জন্য নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে খোলাখুলিভাবে সুপারিশ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মৌলিক নীতিগুলো লঙ্ঘন করে এমন কাজগুলো অগ্রহণযোগ্য।
মারিয়া জাখারোভার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি কেউ জিজ্ঞাসা করতে চান, ‘কূটনীতিক, দায়মুক্তি, দূতাবাস, নিরাপত্তা’ শব্দগুলো কেমন হবে? আমরা সর্বদা আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে এই জিনিসগুলোকে অনুরোধ করি। সত্য, এই মৌলিক নীতি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশগুলোকে শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই যত্নবান এবং মন্তব্য করার জন্য আহ্বান জানাই। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোসহ দেশগুলো এবং তাদের প্রতিনিধিরা যখন তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে তখন তাদের সহকর্মীদের সমর্থন করার জন্যও। দূতাবাস এবং কনস্যুলার সুবিধা। তারা দেখতে বা শুনতে চায় না যে দূতাবাস, কনস্যুলেট জেনারেল, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা করা হচ্ছে বা তারা হুমকি পাচ্ছে। তারা এ বিষয়ে কোনো খেয়ালই করে না।
বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা আরও বলেন, সর্বোপরি, তারা নীরব থাকে এবং সবচেয়ে খারাপভাবে, তারা যারা এটি করে তাদের ন্যায্যতা দেয়। যখন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরা সিরিয়ায় আমাদের (রাশিয়ার) দূতাবাসের বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালায়, তখন আমরা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাধ্যমে আমেরিকানদের এর প্রতিক্রিয়া জানাতে আহ্বান জানিয়েছিলাম। সবকিছু স্পষ্ট ছিল জনসমক্ষে অবস্থান নিতে এবং নিরাপত্তা পরিষদের সাধারণ ভয়েস ব্যবহার করতে অনিচ্ছার কোনো রাজনৈতিক যুক্তি থাকতে পারে না। কূটনীতিকদের সুরক্ষা, দূতাবাসে এবং কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করার বিষয়ে একটি স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে কাউন্সিলে আমাদের প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন সমর্থন করেনি। এক্ষেত্রে কোনো ডবল স্ট্যান্ডার্ড থাকতে পারে না, শুধুমাত্র একটি যৌথ একত্রিত অবস্থান ছাড়া।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এই বিবৃতিটি মূলত গত ২২ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন্ডি শেরম্যানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমকে ফোন করার কারণে দেয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় শেরম্যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত চায়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতেও শেরম্যান এক টুইট করেন। পরে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ফেসবুক ও টুইটারে তা প্রকাশ করে। এদিন রাত সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতেও বিষয়টি জানানো হয়। তাতে বলা হয়, উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পারস্পরিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। কূটনৈতিক সম্পর্কে ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী পারস্পরিক অঙ্গীকারের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন। কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আবারও নিশ্চিত করে শাহরিয়ার আলম বলেন, রাষ্ট্রদূতরা সবসময়ের মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পেতে থাকবেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রদূতদের কোনো পাবলিক বিবৃতি দেওয়ার আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বুঝতে হবে।
বাংলাদেশ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রেষারেষি সম্পর্কে সমাজতাত্ত্বিক মো. জামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে দুই পরাশক্তির লড়াইকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। এটি মূলত বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পরিচিতিকে নতুন করে তুলে ধরছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের শক্তিমত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে জানার আগ্রহ বাড়বে। এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন কিনা সে প্রশ্নের জবাবে বলেন, না, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই। বরং উভয়ের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে। এই ঝগড়া তো বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি। মার্কিন-রাশিয়া তারা নিজেরা করেছে। এর সমাধান তাদের কাছেই আছে।
সমাজতাত্ত্বিক মো. জামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নানান ধরনের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়াকে এক ঘরে করতে। ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জামসহ সকল ধরনের সহায়তা করে বিশ্বকে এক দিকে নিতে যাচ্ছে। যা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ৫ দশক বা ৫০ বছর স্নায়ু বা শীতল যুদ্ধের সময়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী (১৯৪০-১৯৮০) সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রসমূহ এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্রসমূহের মধ্য চলে এই টানাপোড়েন। এই দুই পরাশক্তি অন্যান্য দেশের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক মতানৈক্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির চেহারা নিয়ন্ত্রণ করতো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশসমূহ ছিল গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের পক্ষে; আর সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্র দেশসমূহ ছিল সাম্যবাদ বা সমাজতন্ত্রপন্থী। সোভিয়েতের পতন ঘটে আফগানিস্তানের যুদ্ধে হেরে। ১৯৭৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে সোভিয়েত সৈন্য প্রবেশ করে ১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পরাজিত হয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ৬ থেকে ২০ লাখ আফগান প্রাণ হারায়, যাদের অধিকাংশই ছিল বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্বও। আর সেখানে সম্পূর্ণ অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থবিনিয়োগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
সেই আফগানিস্তানেই ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধ শুরু করে এবং ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট পরাজিত হয়ে দেশ ছেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট’ অনুসারে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধে আফগানিস্তানে ১ লাখ ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৪৭ হাজার ২৪৫ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক, ৬৬ হাজার থেকে ৬৯ হাজার আফগান সামরিক ব্যক্তি ও পুলিশ এবং কমপক্ষে ৫১ হাজার জন বিরোধীযোদ্ধা রয়েছে।
মূলত, বিগত ইতিহাসে দেখা যায় মার্কিন আর রাশিয়া বৈশ্বিক শক্তির ভারকেন্দ্রে থাকায় সবসময় দুদেশ দুদিকে অবস্থান করে ভারসাম্য করার চেষ্টা করে। দুই পরাশক্তির সেই শীতল লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাসেরই একটা ঘটনামাত্র ঢাকাকে ঘিরে তাদের বিবৃতি, পাল্টা বিবৃতি দেয়ার বিষয়টা। গত ৬ ও ৮ ডিসেম্বর মার্কিন দূতাবাস, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি, ১৪ ডিসেম্বর মায়ের ডাকের সংগঠনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানী ঢাকার শাহীনবাগে বিএনপির নিখোঁজ নেতার বাসায় রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের উপস্থিতি এবং সেখানে মায়ের কান্নার স্মারকলিপি গ্রহণ না করার মধ্য দিয়েই এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
তবে বিষয়টা এখন ঢাকার বাইরে দুই পরাশক্তির নিজ নিজ রাজধানীতে ইস্যু হিসেবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ব্যাপারটি নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের একাধিক বিবৃতি, ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান্ডি শ্যারমিনের বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমকে টেলিফোন করা। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক ও টুইটারে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়া। আবার ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস মার্কিনীদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেয়ার ঘটনা ঘটে চলেছে।
গত ২০ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে রাশিয়া জানিয়েছিল, যারা নিজেদের বিশ্বের শাসক বলে মনে করে, তারা ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’ রক্ষার অজুহাতে অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। এ ধরনের নীতি স্পষ্টতই বিশ্বব্যবস্থার স্থায়িত্ব নষ্ট করে এবং বিশৃঙ্খলা ও বিপর্যয় ডেকে আনে। এর অসম্পূর্ণ তালিকায় আছে যুগোস্লাভিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান। রুশ দূতাবাস বলেছে, ‘তৃতীয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে রাশিয়া তার নীতিগত অবস্থানে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের মতো অনেক রাষ্ট্র বিদেশি শক্তির নেতৃত্ব অনুসরণ না করে তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের জন্য তাদের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতি গঠন করে, তারা একই পথ অনুসরণ করে। আমরা এ দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করি, যাতে তারা স্বাধীনভাবে তাদের আরও উন্নয়নের উপায়গুলো নির্ধারণ করে এবং এমন একটি ব্যবস্থা গঠন করে, যা নব্য ঔপনিবেশিক পদ্ধতির অধীন নয়।
তবে সেই ঘটনার দিনই ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাসের টুইটার ও ফেসবুকে এর সমালোচনা করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে টেনে এনে বলা হয়, ‘এটি (অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ) কি ইউক্রেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?’ গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাস দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে তিনি বলেন, নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো মূল্যে তার আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করা, সেই সঙ্গে নিরাপত্তা গ্যারান্টি সম্পর্কে একটি গুরুতর সংলাপে জড়িত থাকার অবজ্ঞাজনক অনিচ্ছুকতা একটি ফলাফলের দিকে পরিচালিত করেছে, যা প্রত্যাশিত ছিল। আফগানিস্তানে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে একটি নতুন সংঘাতে আকৃষ্ট হয়েছে, শুধু কিয়েভের নব্য-নাৎসি শাসনকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সমর্থন করে নয়, বরং স্থলভাগে তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে।
এদিন রুশ দূতাবাস একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করে। সেখানে সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র, পরের কাতারে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র, তারপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সবশেষে ইউক্রেনের পতাকা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার পাশে একটি পাখি, পরের কাতারে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দুটি পাখি, তারপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশে পাখি এবং সবশেষে ইউক্রেনের পতাকার পাশে পাখির ছবি দেয়া হয়। সেখানে দেখানো হয় প্রথম কাতারের পাখির মল পড়ছে দ্বিতীয় কাতারের ওপর। দ্বিতীয় কাতারের পাখির মল তৃতীয় ও তৃতীয় কাতারের মল পড়ছে চতুর্থ তথা ইউক্রেনের ওপর। তাতে আর ইউক্রেনের পাখিদের অস্তিত্ব আর বুঝা যাচ্ছে না। ছবিটি প্রতীকী হলেও এটির তাৎপর্য নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/শহক









