- সবজি কিনতে গিয়ে কপালে ভাঁজ
- ভোজ্যতেলের বাজারে গিয়ে মাথা গরম
- এলপি গ্যাসে দামে সংসারে আগুন
বাজার থেকে ঘরে ফিরে অনেকেই মেজাজ হারিয়ে চরম খিটমিটে হয়ে যাচ্ছেন। গিন্নির সঙ্গে তর্কে-বিতর্ক জুড়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আর আরেকধাপ এগিয়ে সংসারের হালই ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন। এভাবে নিত্যপণ্যের বাজার যে সংসারের ভিলেন হয়ে উঠবে কেউ ভাবতেই পারেননি আগে। যারা আগে সংসারের ভিলেন হিসেবে ভারতীয় সিরিয়ালের ওপর দোষ চাপাতেন নিত্যপণ্যের বাজার থেকে তারা এখন চুপসে যাচ্ছেন।
যুদ্ধ তো আর বাংলাদেশে কিংবা আশপাশের কোনো দেশে লাগেনি, তারপরও বাজার এমন কেন? শীতেরও তো বিদায় হয়নি, তারপরও সবজির বাজার চড়াও হচ্ছে কেন? সংসারের খরচের বহর সামলাবো কী করে? গিন্নি তো খালি বলে এটা নাই, ওটা আনো, কম আনছো কেন? এত কমে মাস চলবে কেমনে?...
এমন হাজারো প্রশ্নের চাবুকে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাজারে যাওয়া অনেক ক্রেতা। বাজার থেকে ঘরে ফিরে অনেকেই মেজাজ হারিয়ে চরম খিটমিটে হয়ে যাচ্ছেন। গিন্নির সঙ্গে তর্কে-বিতর্ক জুড়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আর আরেকধাপ এগিয়ে সংসারের হালই ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন। এভাবে নিত্যপণ্যের বাজার যে সংসারের ভিলেন হয়ে উঠবে কেউ ভাবতেই পারেননি আগে। যারা আগে সংসারের ভিলেন হিসেবে ভারতীয় সিরিয়ালের ওপর দোষ চাপাতেন নিত্যপণ্যের বাজার থেকে তারা এখন চুপসে যাচ্ছেন।
এমনিতেই ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দিন থেকেই জ্বালানি তেল আকাশে উড়তে শুরু করেছে। মাটিতে আর নামছে না। আর সেই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দামও যেন খুশিতে ডানা মেলছে। যুদ্ধ বেধেছে সেই হাজার হাজার মাইল দূরে শীতের দেশ ইউক্রেনে। আর তার উত্তাপ লেগেছে রাজধানীর বাজারে। ভোজ্যতেলের দাম তো বেড়েছেই, তার ওপর আবার বাগড়া দিচ্ছে পেঁয়াজ। কয়েকদিন আগেই লাফিয়ে বেড়াচ্ছিল পেঁয়াজ। বাণিজ্যমন্ত্রীর চেষ্টায় কোনোরকমে টুঁটি চেপে ধরে তাকে খাচার আটকানো হয়।
তবে হঠাৎ করেই আবার গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে পেয়াজের আগের চরিত্র দেখা গেছে। কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে লাফাতে লাফাতে ৬০ টাকায় উঠে গেছে। যারা আধাকেজি কেনার জন্য বাজারে গিয়েছেন, তারা আড়াইশ গ্রাম কিনে ঘরে ফিরে গিন্নির রোষানলে পড়েছেন। তবে গল্পটা এখানেই থেমে নেই। ভাই সবজির দাম আরেকটু কমানো যায় না? এমন অনুরোধ করলে সবজি বিক্রেতারা সোজা বলে দিচ্ছেন, কমদামে সবজি খাওয়ার দিন শেষ স্যার।
মূলত, বাজারে সবধরনের সবজির দামই বেড়ে গেছে। দোকানে দোকানে অনুসন্ধান করেও সত্যতা মিললো। এখন একশ টাকা কেজির ওপরে বিক্রি হচ্ছে বেশ কয়েকটি সবজি। কয়েকদিন পর আরো কয়েকটি সবজি সেই তালিকায় স্থান পাবে- এমন ইঙ্গিত দিলেন ব্যবসায়ীরা। অবশ্য অনেক আগেই সেঞ্চুরি পার করেছে বরবটি। কারো বরবটি খেতে ইচ্ছে করলে কেজিপ্রতি খরচ করতে হবে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।
তবে বরবটির এমন মাথা গরমের মধ্যে ক্রেতাদের শান্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ডিম, মাছ আর মুরগির দাম। তারা এখন কোনো উচ্চবাচ্য করছেন না। তবে মাথায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল। সংসারের অশান্তি একেবারেই চরমে পৌঁছে দিয়েছে সোয়াবিল তেল। সোহাগ হাসান নামের এক ক্রেতার এমন অভিজ্ঞতাই হয়েছে। তিনি বলছেন, ভাই, বাজারে গিয়ে তো মাথাই খারাপ। সয়াবিন তেলের বোতল কিনতে গিয়ে দেখলাম আজব কাণ্ড। লেবেলে স্পষ্ট লেখা দাম ১৬৫ টাকা। আর দোকানি ১৮০ টাকার কমে বিক্রি করবেন না। মাথা খারাপের অবস্থা নয়? এভাবে ভাই চলবে কেমনে?
তবে মাথা গরমের ভিলেন যে শুধু সবজি কিংবা ভোজ্যতেল- তা কিন্তু নয়। কোথায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আর কোথায় ঢাকা। কীভাবে যুদ্ধের প্রভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ে মাথায় ঢোকে না অনেকের। গেল বছরের নভেম্বরে ১২ কেজির এলপি গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ ১৩১৩ টাকা করা হলেও ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে তা কমেও যায়। অবশ্য ফেব্রুয়ারিতে খানিকটা বেড়ে হয় ১২৪০ টাকা। আর সেই সিলিন্ডার এখন ৫১ টাকা বেশি দিয়ে ১৩৯১ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শাক-সবজি আর সয়াবিল তেল কিনে ঘরে ফিরে এমনিতেই মাথা গরম থাকছে। তার ওপর সেগুলো রান্না করার গ্যাসে দামও যদি বেড়ে যায়, তাহলে কাঁচা খাওয়াই ভালো নয়? কিন্তু একথা কি গিন্নিকে বলা যায়?









