জানুয়ারিতে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আহরণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আহরণ প্রায় ২০ শতাংশ কম। মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ১৯৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার বেশি। রেমিট্যান্সের এ অংক আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৯৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ শতাংশ কম। এর আগের অর্থবছরের একই সময় এসেছিল ১ হাজার ৪৯০ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ১৭০ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। যা ডিসেম্বরের চেয়ে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার বেশি। তবে আগের বছরের জানুয়ারির চেয়ে ২৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার বা ১৩ শতাংশ কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে অনিশ্চয়তার কারণে, কেউ চাকরি হারিয়ে কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে সব অর্থ দেগশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। করোনার প্রার্দুভাবের সময় অবৈধ চ্যানেলগুলো বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে সবাই ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে গত বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেশি ছিল। এখন বহির্বিশ্বের সঙ্গে যাতায়াত বাড়ছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে চাহিদা বেড়েছে। এছাড়া অনেকে আবার জমাতে শুরু করেছেন। আবার সশরীরে যাওয়া-আসা শুরু হওয়ায় অনেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসছেন। ফলে চলতি অর্থবছরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে।
এদিকে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স বাড়াতে গত মাসে নগদ সহায়তার আওতা বাড়িয়েছে সরকার। এখন থেকে বিদেশি সংস্থায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত পেনশন ফান্ড, প্রভিডেন্ট ফান্ড, লিভ সেলারি, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধার অর্থ দেশে আসলে রেমিট্যান্স হিসাবে আড়াই শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদ সহায়তা দিয়ে রেমিট্যান্সের দীর্ঘ মেয়াদি সুফল আসবে না। এ ধরনের সুবিধা দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি সুফল পেয়েছে তার নজিরও খুব একটা নেই। তাই রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে খোলা বাজারের সঙ্গে ব্যাংকের ডলারের রেটের পার্থক্য কমাতে হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ১৮১ কোটি, সেপ্টেম্বর মাসে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ, অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ, নভেম্বর ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ, ডিসেম্বরে ১৬৩ কোটি এবং সবশেষ জানুয়ারিতে এসেছে ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।
আনন্দবাজার/শহক









