সরকারি প্রকল্প 'স্বপ্ন' এর আওতায় ব্যাপক আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন গ্রামীণ নারীরা। অসহায় নারীরা উৎপাদনশীল সম্ভাবনাময় কর্মের সুযোগ গ্রহণ করে ফেরাচ্ছেন তাদের ভাগ্য।
কুরিগ্রামের জেলার চিলমারি উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের আলেয়া বেগম সরকারি প্রকল্প 'স্বপ্ন' এর সহায়তায় কাজ শুরু করেন।
তিনি জানান, খুব দুর্ভোগে জীবনযাপন করছিলাম সন্তানকে নিয়ে। এক দুপুর বেলা আমি কাজ করছিলাম। সে সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ হতে মাইকে এক ঘোষণা শুনতে পাই যে, ‘স্বপ্ন’র পক্ষ হতে গরীব নারীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি তখন লটারির মাধ্যমে স্বপ্ন’ প্রকল্পে একজন বেনিফিশিয়ারি হিসেবে ভর্তি হয়ে যাই।
মূলত এরপর থেকে তার ভাগ্য ফিরতে থাকে। কাজের মাধ্যমে তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রতিদিন আয় হওয়া শুরু হয়। এ সময় তিনি তার দক্ষতা উন্নয়নে ভালো প্রশিক্ষণ পান। প্রশিক্ষণ নেন ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও গবাদি-পশু পালনের উপর। ‘স্বপ্ন’র ওই প্রকল্পে ৮/৯ জনের একেকটি গ্রুপ করা হয়। তেমন এক গ্রুপের সদস্য ছিলেন আলেয়া। তারা সবাই মিলে ‘রোটেটিং সেভিংস এন্ড ক্রেডিট অ্যাসোসিয়েশনে’ টাকা জমান।
পরে নিজের কর্মদক্ষতা এবং অ্যাসোসিয়েশনে গ্রুপের সদস্যদের জমানো অর্থ দিয়ে আলেয়া একটি খাবারের দোকান খোলেন। এ সময় তার মূলধন ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। স্থানীয়রা তার খাবার পছন্দ করেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে তার দোকানের মূলধন দাঁড়ায় ৪০ হাজার টাকা।
তিনি সকালে ‘স্বপ্ন’তে কাজ করতেন ও বিকেলে তার নিজের দোকান চালাতেন। ১৮ মাস পর তার কাজের চুক্তি শেষ হলে তার জমানো টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এই টাকাসহ স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেন, যাতে করে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করা যায়।
বর্তমানে আলেয়া একটি রেস্টুরেন্ট চালান যেখানে সব কিছু হয় তারই তত্ত্বাবধানে। মাত্র দেড় বছরে তার ব্যবসা ভালো সুনাম পায়। সেই সাথে তার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ টাকা। তিনি জানান, এখন আমি ভালোভাবে চলছি। আমার ছেলেও ভালো স্কুলে পড়াশুনা করছে।
‘স্বপ্ন’ এর জাতীয় প্রকল্প পরিচালক কাজল চ্যাটার্জী জানান, স্বপ্ন হচ্ছে একটি সামাজিক স্থানান্তরভিত্তিক গ্র্যাজুয়েশন মডেল প্রকল্প যা খুব দরিদ্র গ্রামীণ নারী প্রধানত তালাকপ্রাপ্তা, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা অথবা প্রতিবন্ধী স্বামীর স্ত্রীদের জন্য কাজ করে থাকে। প্রকল্পের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে আছে ১৮ মাস নির্দিষ্ট চুক্তিভিত্তিক পাবলিক ওয়ার্কস, জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় এই প্রকল্পটি এপ্রিল ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এতে সহায়তা করছে ইউএনডিপি, মারিকো ইন্টারন্যাশনাল এবং বিএসআরএম।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









