- থাকছে ৩২৫ স্টল, নেই বিদেশি পণ্য
- উদ্যোক্তাদের ৬০ ভাগ নারী, পুরুষ ৪০
- গত তিন মেলায় কমেছে বিক্রি
- উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশা
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রচার-প্রসার, বিক্রয় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নবমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৫ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে মেলা। গত তিন মেলায় এসএমই পণ্যমেলার বিক্রয় ও অর্ডার টানা কমলেও এবার সাতগুণ বিক্রির প্রত্যাশা করছে এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেলায় কোনো প্রবেশ মূল্য ছাড়াই সকাল দশটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আট দিনব্যাপী জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিল্পমন্ত্রী।
এসএমই ফাউন্ডেশন এর তথ্যমতে, মেলায় গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে পণ্যের বিক্রয় ও অর্ডারের পরিমাণ কমেছে। ২০১৮ সালে যেখানে মেলায় পণ্য বিক্রি হয়েছিল পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭ লাখ টাকায়। ২০২০ সালে তা আরো কমে চার কোটি ৯৪ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। একই সময় মেলা থেকে পণ্য অর্ডারের পরিমাণও কমেছে। ২০১৮ সালে মেলায় ১০ কোটি ১৪ লাখ টাকার অর্ডার হলেও গত মেলায় অর্ডার হয়েছিল মাত্র ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকায়।
ধারাবাহিকভাবে ক্রয় এবং অর্ডারের হ্রাসের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আনন্দবাজারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মফিজুর রহমান বলেন, বিগত দিনে যা হয়েছে, হয়েছে। সামনে যেন বিক্রি ৭ গুণ বেশি বৃদ্ধি পায় তা আমাদের প্রত্যাশা।’ তাছাড়া মেলায় বিভিন্ন সেক্টরকে সংযুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগে ৮০ ভাগ কাপড়ের পণ্য থাকলেও এবার বিভিন্ন সেক্টরকে মেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া মেলার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য বিক্রয় নয়, বরং উদ্যোক্তাদের নিয়ে আসা। ফরওয়ার্ড লিংকেজ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ তৈরি করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২১ বিজয়ী ৪ জন উদ্যোক্তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও চেক তুলে দেয়া হবে। এবারের মেলায় শতভাগ দেশি পণ্যের সমাহারে থাকবে। তবে কোনো বিদেশি পণ্যের প্রদর্শনী থাকবে না। মেলায় উদ্যোক্তাদের জন্য ৩২৫টি স্টলের ব্যবস্থা থাকবে। ৮ দিনের মেলার পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন, নারী-উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, ক্লাস্টার উন্নয়নের ওপর ৪টি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এসএমই উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ এবং সেতুবন্ধন তৈরিতে সহায়তা; ভোক্তা এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সংযোগ স্থাপন করবে এ মেলা। মেলার মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভোক্তাসহ বিভিন্ন মহলের সৃজনশীল মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের পাশাপাশি এ মেলায় ক্রেতা এবং বিক্রেতা মিটিং বুথ, রক্তদান কর্মসূচি, মিডিয়া সেন্টারসহ অনলাইন পণ্য মার্কেটিং বিষয়ক স্টল থাকবে। করোনা বাড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আপাতত এসএমই খাতের জন্য আলাদা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেই সরকারের। অন্যদিকে আগামী বছরের মধ্যে চিনি কলের আধুনিকায়ন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এবার অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৬০ ভাগ নারী এবং ৪০ ভাগ পুরুষ থাকছেন। মেলায় অংশ নিচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইন খাতের সবচেয়ে বেশি ১১৬টি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য খাতের ৩৭টি, খাদ্য/কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য খাতের ৩৬টি, হ্যান্ডিক্রাফটস আইটেম ৩৩টি, পাটজাত পণ্য খাতের ২৯টি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য খাতের প্রতিষ্ঠান ১৭টি, আইটি খাতের ৪টি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স খাতের ৬টি, হারবাল/অর্গানিক পণ্যের ৪টি, জুয়েলারি পণ্যের ৪টি এবং প্লাস্টিক পণ্য খাতের ৩টি প্রতিষ্ঠান এবার অংশ নিচ্ছে মেলায়।
উল্লেখ্য, গত ৮টি জাতীয় এসএমই মেলায় এক হাজার ৫৬১ জন উদ্যোক্তা প্রায় ২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি, ৩৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার অর্ডার গ্রহণ এবং ৮৬টি আঞ্চলিক (বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে) এসএমই পণ্য মেলায় ৩ হাজার ১৬২ জন এসএমই উদ্যোক্তা পণ্য প্রদর্শন করে ২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য বিক্রয় এবং ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকার অর্ডার গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানাসহ এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ড. মো. মাসুদুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আনন্দবাজার/এজে









