খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করায় দুর্ভোগে পথচারিরা। পাশাপাশি বেপরোয়া গতির এসব যানের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো ভরে উঠেছে খানাখন্দে
খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন অবৈধ। জেলা প্রশাসকদের খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে : আব্দুল ওয়াহাব ভুঁইয়া, বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে শুষ্ক মৌসুমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধুলোর মেঘ উড়িয়ে চলাচল করছে বালুবাহী ট্রাক্টর। খোলা অবস্থায় এভাবে বালু পরিবহন করায় দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারি ও এলাকাবাসী। এ ছাড়া বেপরোয়া গতির এসব যানের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কগুলো ভরে উঠেছে খানাখন্দে। পুলিশের তথ্যমতে, গত তিন মাসে বালুবাহী এসব ট্রাকের ধাক্কায় অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ। এছাড়া প্রতিদিন শতাধিক নদী ও জলাশয় থেকে অবৈধভাবে বালু তুলছে ভূমিদস্যুরা। এসব দেখার যেন কেউই নেই।
পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্রাচার্য আনন্দবাজারকে বলেন, এসব দেখভাল করবেন জেলা প্রশাসন। অবৈধ ট্রলি চালকদের ধরতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সক্রিয় রয়েছে। তবে, যারা অবৈধ বালুর ব্যবসা করছেন তাদের ত্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা জানান, বালু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নদী থেকে বালু তুলে সড়কগুলো দিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। সড়কগুলো রিকশাসহ হালকা যান চলাচলের জন্য নির্মিত হলেও এখন ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে খানাখন্দে ভরে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের ৮ জেলার বিভিন্ন সড়কে ৫ থেকে ৬ হাজার ট্রাক্টর খোলাভাবে বালু বহন করছে।
আঞ্চলিক ও মহাসড়কে ঘুরে দেখা যায়, নদী ও খাল থেকে ট্রাক্টর ও ট্রলিগুলো বালু নিয়ে জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বালু ঢাকার জন্য ব্যবহার করা হয়নি কোনো ত্রিপল। চলন্ত গাড়ি থেকে উড়ে পড়ছে বালু।
রংপুর-কুড়গ্রাম মহাসড়কে কথা হয় ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বালুবাহী ট্রলির দাপটে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। বাতাসে ট্রলির বালু চোখে এসে পড়ে। দীর্ঘ বছর ধরে এ সড়ক দিয়ে খোলা অবস্থায় বালু বহন করছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, বালুবাহী যানগুলো বেপরোয়াভাবে চলাচল করায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারা সড়কগুলো দিয়ে ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। এখন ফের বিদ্যালয় খুলেছে। শুষ্ক মৌসুমে বালুবাহী ট্রাক্টর-ট্রলি ঢাকনা দিয়ে বালু বহন না করলে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়বে।
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজালুল হক জানান, উপজেলা সদরের সড়কগুলো দিয়ে খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করায় তা ছিটকে মানুষের চোখেমুখে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে এবং উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয়ন সভায় আলোচনা করা হয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলিতে খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন করা হচ্ছে। আমরা নিষেধ করলেও চালকেরা শুনছেন না। বরং উপজেলা সদরে এলে ট্রলির গতি চালকেরা বাড়িয়ে দেন। এতে ট্রলির বালু উড়াতে উড়াতে অন্ধকার করে ফেলে সদরের সড়ক-মহাসড়ক। পথচারীদের তখন চোখমুখ ঢেকে কোনো রকমে চলতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভুইয়া বলেন, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন অবৈধ। জেলা প্রশাসকদের খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।









