ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দুটি। তার মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ৮ বছর ধরে নিজেই রোগি হয়ে পড়ে আছে। সচল অ্যাম্বুলেন্সটির নেই চালক। হাসপাতালের মালি বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে কাজ করছেন
দিনাজপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা ঘোড়াঘাট। জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দুরত্ব ১০২ কিমি.। জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এখানকার মানুষজনকে। এর ওপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। জরুরি মূহুর্তে অ্যাম্বুলেন্স পেতে জীবন মরণের পরীক্ষায় পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের।
৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকলেও জটিল কোনো সমস্যা হলেই এ উপজেলার মানুষকে যেতে হয় দিনাজপুরে। জেলা সদরের দুরত্বের সঙ্গে খরচও বেশি। তাই রোগীদের যেতে হয় রংপুর কিংবা গাইবান্ধায়। ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে রংপুর ও বগুড়া জেলা হাসপাতেলর দুরত্ব ৫০ থেকে ৬০ কিমি.। আর দিনাজপুরের দুরত্ব ১০২ কিমি.।
উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১৪৮ দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঘোড়াঘাট উপজেলার মোট জনসংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৪০ জন। গত ১০ বছরে এ সংখ্যা আরও কয়েক হাজার বেড়েছে।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এ মানুষগুলোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে মাত্র দুটি। তার মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স গত ৮ বছর ধরে নিজেই রোগি হয়ে পড়ে আছে। বাকি সচল একটি অ্যাম্বুলেন্সের আবার নেই চালক। হাসপাতালের মালি বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্সটির চালক হিসেবে কাজ করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তথ্য বলছে, এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩শ’ রোগি সেবা নিতে আসেন। তার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। অন্যদিকে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগিদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে সাত-আটজন রোগির অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন পড়ে। তবে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকায় রোগিদের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি সরকার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে যুক্ত করেছে। তবে ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে টোল ফ্রি এ জরুরি সেবার মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সকে কল করলে, এ সেবার আওতায় থাকা অ্যাম্বুলেন্স আসতে এক ঘণ্টারও অধিক সময় লাগে। কোনো কোনো সময় অপেক্ষা করতে হয় ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত।
কারণ ঘোড়াঘাট উপজেলার কোনো প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এ সেবার আওতায় নেই। ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। সেসব উপজেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসতে সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ভুক্তভোগি যুবক ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার মনোরঞ্জন মহন্ত বলেন, আমার এক নিকটাত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়লে জরুরি প্রয়োজনে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। পরে মাইক্রো ভাড়া করে রংপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আনোয়ার বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। সচল থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক কিছু ত্রুটি মেরামত এবং নতুন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার জন্য সিভিল সার্জনকে আমি জানিয়েছি। অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি এসব অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারি বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। এছাড়া আমাদের চালক সংকট। আগে দুজন চালক ছিলেন। তার মধ্যে একজন অন্যত্র বদলি হয়েছে। অন্যজন মামলা সংক্রান্ত সমস্যায় বরখাস্ত। বর্তমানে হাসপাতালের মালি সচল ওই একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে কাজ করছেন।









