- মাঝারি আকারের প্রতিটি কাঠাল ৫০ থেকে ১০০
- আম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা ধরে বিক্রি
মধুমাস জ্যৈষ্ঠকে পাড়ি দিয়ে চলছে আষাঢ়ের বর্ষাকাল। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাজারে থাকে মৌসুমী ফলের সমাহার। তবে এবার বাজারে দেখা গেছে ভিন্নতা। আষাঢ়ের শেষের দিকে দৃষ্টিনন্দন বাহারি ফলের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে। চলতি বছর আষাঢ়ের শুরু থেকে মাঝা-মাঝিতে এসে জমজমাট হয়ে উঠেছে বাজার গুলো। ফলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৌসুমী ফল বিক্রেতারা। এতে বিক্রেতারা লাভবান হলেও হাতের লাগালে এসব ফল পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।
জানা যায়, গেল দু’বছর করোনা সংক্রমনের কারণে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারেননি। সংক্রমন রোধে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ নানা নির্দেশনায় মানুষের সমাগম না থাকায় বাজার গুলো ছিল জনশূণ্য। অনেক হাট বাজার ছিল বন্ধ। যে কারনে ক্রেতারাও দেশীয় প্রজাতির ফল ক্রয় করতে পারেননি বাজার থেকে। এতে লোকসান গুনতে হয় অনেক বিক্রেতাদের। দীর্ঘদিন পর বাজারজুড়ে বসেছে দেশীয় প্রজাতির বাহারী ফলের দোকান। এতে বিভিন্ন জাতের ফল দিয়ে দোকান গুলো সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে কাঠাল কিনতে বাজারে ভীড় করছেন ক্রেতারা। স্থানীয় বাজারে দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের ফল পেয়ে মহাখুশি ক্রেতারা।
গতকাল রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার, শায়েস্তানগর বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার গুলোতে বসেছে অধিক পুষ্টি গুণের দেশী জাতের রসালো আম, কাঁঠাল, লিচু, কালোজাম, গোলাফজাম, আনারসসহ প্রায় ২০ জাতের ফল। বাজারজুড়ে ছেয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন জিভে জল আনা স্বাদের নানা জাতের মৌসুমি পাকা ফল। ফজলি, ল্যাংড়া, রূপালী, সিন্দুরীসহ বিভিন্ন জাতের আম উঠেছে বাজারে। এর মধ্যে ল্যাংড়া ও ফজলি আম বেশি। প্রতিকেজি আম ৫০ থেকে ৬০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। আমের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক প্রজাতির লিচু আসছে বাজারে। তবে হবিগঞ্জ জেলায় লিচুর চাহিদা অনেক বেশি। এ লিচু রসালো ও মিষ্টি, তাই সকলেরই প্রিয়। ভ্যানগাড়িতে করে এসব লিচু শহরের থানা মোড়সহ অলিগলিতে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এসব ফল ক্রয় করতে ভীড় করছেন ক্রেতারা। অনেক ক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমত বাহারি ফল ক্রয় করছেন। ব্যাগভর্তি ফল নিয়ে রিক্সা যোগে ফিরছেন বাসা-বাড়িতে। তুলনামূলক ভাবে ফলের দাম এবার স্বাভাবিক থাকায় ক্রেতারা সন্তোষ্ট। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কটিয়াদি বাজারে দেখা যায়, রাস্তার পাশেই বসেছে কাঠালের সারি। জমাট বেধে ধর কষা-কষি করে কাঠাল ক্রয় করছেন ক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাগান থেকে তারা পাইকারী ধরে কাঠাল ক্রয় করেন। পরে বিকেলে এসব কাঠাল তুলেন বাজারে। খুচরা বাজারে মাঝারী আকারের কাঠাল প্রতি পিছ ৫০/১০০ টাকা ও বড় আকারের কাঠাল প্রতি পিছ ১০০/২০০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন তারা। প্রতিদিন সন্ধ্যার শেষে দিকেই কাঠাল গুলো বিক্রি হয়ে যায়।
রুবেল আহমেদ নামে এক কাঠাল ক্রেতা জানান, এবার বাজারে কাঠালের দাম স্বাভাবিক। স্বল্পমূল্যে বাজারে কাঠাল পাওয়া যাচ্ছে। গত ২ বছর করোনা থাকায় বাজারে কাঠাল আসেনি। এবার করোনার প্রভাব না থাকায় প্রতিদিন বাজারে উঠছে কাঠাল। তিনি গত দু’দিনে বড় আকারের দুটি কাঁঠাল ক্রয় করেছেন।
কাঠাল বিক্রেতা রমিজ আলী জানান, তিনি প্রতিদিন ছোট বড় ২০০ কাঁঠাল বাজারে বিক্রি করছেন। এর আগে তিনি এসব কাঠাল জেলার বিভিন্ন পাইকারী বাজার থেকে ক্রয় করেন। বাজারে কাঠাল বিক্রি করে তিনি প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা লাভবান হচ্ছেন।









