- বেতাগীর অর্ধশতাধিক ব্রীজ এখন মৃত্যুফাঁদ
বরগুনার বেতাগী উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় জনদুর্ভোগের আরেক নাম আয়রন ব্রিজ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক আয়রন ব্রিজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই অনেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁিকর মধ্যে রয়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্রিজ মেরামত না করায় গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও সহজতর করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ এর দশকে বেতাগী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৬৫টি আয়রন ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূচিত হয় নতুনদিগন্ত। তবে নির্মাণের পরবর্তী সময় থেকে এসব ব্রিজের কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে।
ব্রিজগুলোর মধ্যে বিবিচিনি ইউনিয়নে ৭টি, বেতাগী ইউনিয়নে ৮টি, হোসনাবাদ ইউনিয়নে ১১টি, মোকামিয়া ইউনিয়নে ৯টি, বুড়ামজুমদার ইউনিয়নে ৯টি, কাজিরাবাদ ইউনিয়নে ৮টি, সরিষামুড়ি ইউনিয়নে ১৩টিসহ মোট ৬৫টি আয়রন ব্রিজনির্মাণ করা হয়। তবে বিবিচিনি ও হোসনাবাদ ইউনিয়নে ছয়টি ব্রিজের একদম বিকলবস্তা সৃষ্টি হয়েছে। যা চলাচলের একদম অযোগ্য। মূল পিলারসহ ক্রস এঙ্গেলে মরিচা পড়ে ভেঙ্গে পড়েছে। অনেক ব্রিজের লোহার পাত ও এঙ্গেল চুরি হয়ে গেছে। আবার অনেক ইউনিয়নে ব্রিজের মূল কাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্রিজগুলো যাত্রীসহ যানবাহন চলাচলে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব ব্রিজ সংলগ্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, ঝুকিপূর্ণ ব্রিজের কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। বিবিচিনি বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, ভাঙা ও মরিচাপড়া লোহার এঙ্গেলের উপর ঝুলে আছে ৩টি সেতু। উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নে এমন কিছু সেতু আছে যেখানে চলাচলের সময় মানুষ উঠলে কখনো ডানে আবার কখনো বামে কাঁত হয়।
বেতাগী সদর ইউনিয়নের নিজাম হোসেন জানান, ইউনিয়নের গেরদো লক্ষ্মীপুরা বাজারে খালের উপরের আয়রণ ব্রিজটি ধসে পড়ার কারণে এটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ব্রিজের স্থলে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে খেয়া। ব্রিজটি দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে গত ৬ মাসে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হোসনাবাদ ইউনিয়নের রুহুল আমিন বলেন, ৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময় ইউনিয়নের আয়রন ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক স্থানে ব্রিজগুলো ভেঙ্গে গেছে। সবগুলো ব্রিজের বেহাল দশা। মূল লোহার ভিমগুলো মরিচা ধরে ভেঙ্গে গেছে।
উপজেলা প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নতুন কোনো আয়রন ব্রিজ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে গুরুত্ব অনুসারে ভাঙ্গা আয়রন ব্রিজের স্থলে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এর জন্য বেশকিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









