রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৮ মাসে ৪৫ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। করোনাভাইরাসের কারণে সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতায় আগামীতে এই ঘাটতি আরো বাড়ার আশঙ্কা করছে অর্থনীতিবিদদের। এ অবস্থায় এনবিআরের সক্ষমতা মাথায় রেখে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং অগ্রাধিকার বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আহবান জানান তাঁরা।
এর আগে চলতি অর্থ বছরের শুরু থেকেই এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হার নিম্নমুখী। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে গেল বছরের চেয়ে রাজস্ব আয়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পেলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি বেড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
শুরু থেকেই রাজস্ব আহরণের জন্য ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাকে উচ্চভিলাসী বলে আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ও উন্নয়ন ব্যয় যৌক্তিক করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহবান তাদের।
সার্বিক অর্থনীতিতে মন্দাভাবের কারণে রাজস্ব আয় বাড়াতে নতুন খাতে জোর দেয়া ও কার্যকর কৌশল নির্ধারণের আহবান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম । পাশাপাশি করের আওতা বাড়ানো ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনে জোর দিচ্ছেন তিনি।
এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, এই ক্ষতির বিষয়টা মাথায় রেখে তাকে অন্যদিকে আরও কৌশলী হতে হবে। দেখা গেছে অনেক সময় উৎসের টাকা সেটা যথা সময়ে জমা হচ্ছে না। অতএব পাইপলাইনে টাকা পড়ে না থাকুক। এখানে বিশেষ নজর দিতে হবে।
গত বছরের চেয়ে ৪৫ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে চলতি অর্থ বছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ১৩ শতাংশ আমদানি বাড়লেও করোনার কারণে ৮ মাসে চেয়ে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার কম আমদানি হয়েছে। কমেছে রাজস্ব।
আনন্দবাজার/শহক









