প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত দেশবাসী। তবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুরের যমুনা তীরের মানুষদের কাছে করোনা আতঙ্কের চেয়ে বড় আতঙ্ক নদী ভাঙন। বর্ষার আগেই ভাঙছে যমুনার তীর। ফলে কয়েকদিনের মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে পারে অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এ নিয়ে যমুনা তীরের মানুষদের মনে করোনার থেকে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা নদীতীরবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকা পাঁচ বছর ধরে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। এই ভাঙনের কারণে বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়ে পথে বসেছে এসব ইউনিয়নের পাকুরতলা, বাঐখোলা, ব্রাহ্মণ গ্রাম, আরকান্দি, পুঁটিপাড়া, জালালপুর ঘাটাবাড়ি, ভেকা, হাটপাচিল ও চিলাপাড়াসহ ১০ গ্রামের মানুষ। ক্রমাগত ভাঙনের ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এসব গ্রাম।
স্থানীয়রা জানান, বৈশাখ মাসের শুরু থেকে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও এখনো বড় জোয়ার আসেনি যমুনায়। এ অবস্থাতেই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার বিভিন্ন গ্রামে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হয় এই ভাঙন। এ নিয়ে আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার লিখিত আবেদন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, করোনাভাইরাস আমাদের বিচলিত করতে পারছে না। কেননা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একদিন চলে যাবে। কিন্তু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলে তখন আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, এনায়েতপুরের ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের মধ্যে ব্রাহ্মণ গ্রাম থেকে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ, চর ড্রেজিং ও নদী শাসন করা হবে। এ প্রস্তাবটি প্রি-একনেকে খসড়া আকারে অনুমোদনও হয়েছে। এখন একনেকে পাস হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করা হবে। তবে এ বছর বর্ষার আগে ভাঙন রোধে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বালির বস্তা ফেলা হবে। আশা করছি বালির বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









