বেঁচে থাকার লড়াই করছে স্ক্রিন প্রিন্ট ব্যবসা। রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আশুলিয়া, কেরানিগঞ্জ, মিরপুর, সাভার এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে গড়ে উঠেছে স্ক্রিন প্রিন্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু করোনার কারণে গার্মেন্টস শিল্পের মত একেবারেই থমকে গেছে স্ক্রিন প্রিন্টের ব্যবসাও।
মিরপুর দুয়ারীপাড়ার এসঅ্যান্ডএস প্রিন্ট নামের প্রতিষ্ঠানটি বিগত এক দশক ধরে প্রিন্টের কাজ করে আসছে। কিন্তু করোনায় অর্ডার কমে যাওয়ায় ব্যাপক বিপদে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে এসময় খরচ কমিয়ে আনার জন্য কর্মী ছাঁটাই করে টিকে থাকার চেষ্টা করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আব্দুল আজিজ। কিন্তু এতে কাজ না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত গেল নভেম্বরে লোকসান দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দেন তিনি।
রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পকে কেন্দ্র করে ম্যানুয়ালি কাপড় প্রিন্ট করার জনপ্রিয় এই পদ্ধতি বর্তমানে কোনোভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে করছে।
শিয়ালবাড়ীর সিলভার স্টোন স্ক্রিন প্রিন্টের সুপারভাইজার এবিএম সাগর টিবিএসকে জানান, আমাদের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এমনকি লোকাল কাজও খুব একটা নেই। ২০১৭ সালে ব্যবসা চালুর পর এতো বড় সংকটে এর আগে কখনো পড়িনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কারখানাই বন্ধ করে দিতে হবে।
এদিকে দুয়ারীপাড়ায় ডট সাইন নামের কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে, ইতালিয়ান একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য তারা কাপড় প্রিন্ট করছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আগে মাসে প্রায় ২ লাখের মতো কাপড় প্রিন্টের অর্ডার পেতাম। বর্তমানে পাই ৫০ হাজার বা এরও কম। তাই এখন বাধ্য হয়ে নিয়মিত কর্মীদের একটা অংশকে চুক্তিভিক্তিক কাজ করাচ্ছি।
ব্যবসায়ীরা জানান, রপ্তানিমুখী পোশাকের প্রিন্ট অর্ডার কমে যাওয়ায় তাদের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের জন্য পোশাক প্রিন্ট থেকে যে আয় হয়- তাতে ভাড়া ও বিভিন্ন সংস্থাপক খরচ দিতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অনেকে প্রতিষ্ঠান সচল রেখেছেন।
স্ক্রিন প্রিন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব সাইফুল ইসলাম টিবিএসকে জানান, রপ্তানিমুখী পোশাকের স্ক্রিন প্রিন্টের অর্ডার না পেলে এখাতের ৩ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান আদৌ টিকে থাকতে পারবে কীনা- তা নিয়েই ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









