মহামারি করোনায় সারাবিশ্বের অর্থনীতির চাকা যখন স্থবির হয়ে পড়েছিলো, তখন প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই হাতে থাকা জমানো টাকা বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তখন রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো মালয়েশিয়া। তবে এবার সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ হার কমেছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে কমেছে অর্ধেকের বেশি। সবকিছু মিলিয়ে প্রভাব পড়েছে রেমিটেন্সের প্রবৃদ্ধিতে।
জুলাই-মার্চের মধ্যে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় কমেছে ১৮ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স কমার হার ৫১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সবচেয়ে কমেছ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কমেছে ২২.১৬ শতাংশ। ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, ইউএই, কুয়েত, কাতার, ওমান ও বাহরাইন থেকে সামগ্রিক আয় কমেছে ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো দেশগুলোর তালিকায় প্রথম অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। শুধুমাত্র এই একটি দেশ থেকেই ঘাটতির পরিমাণ ০ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ আরব আমিরাত থেকে আগের অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের তুলনায় আয় কমেছে ৩২ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরে যেখানে আয় এসেছিল ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে একই সময়ে চলতি অর্থবছরে এসেছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ওমান থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৪১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, কুয়েত ১২ দশমিক ৬১, বাহরাইন ৩ দশমিক ৫৯ ও কাতার থেকে ০ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে রেমিটেন্স কম এসেছে।
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স কমলেও, কমার হার ৫ শতাংশের নিচে থাকায় তালিকায় পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য। আগের অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশটি থেকে ১ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিল। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যেখানে প্রবাসীরা ০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, সেখানে চলতি অর্থবছরের তা ০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া থেকে রেমিট্যান্স ৪৬ দশমিক ০৬ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রেমিট্যান্স পাঠানো দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এসেছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। দেশটি থেকে আসা আয়ে প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ইতালি থেকে গত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরে গত মাস পর্যন্ত ইউরোপের দেশটি থেকে এসেছে ০ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, আয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।
মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে আয় কমা নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারা আর ওসব দেশে ফিরতে পারেননি। এছাড়া নতুনদের যাওয়াও সেভাবে শুরু হয়নি। এ কারণে এই দেশগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য হারে আয় আসা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আয় আবার বাড়বে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোতে আবার শ্রমিক যাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। তাই বছরখানেকের মধ্যে সেসব দেশের আয় আবার বেড়ে যাবে।
অনন্দবাজার/শহক









