- ৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ শুরু
- খনন করা হবে নদীর উৎসমুখ থেকে সাড়ে ২৩ কিমি.
সাতক্ষীরার বেতনা নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সাতক্ষীরা ১-২, ৬-৮, এক্সশনাক্স পোল্ডার পানি নিষ্কাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন নামে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ৪৭ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পে বেতনা নদীর উৎসমুখ থেকে মোট সাড়ে ২৩ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে।
সাতক্ষীরার বেতনা একটি সীমান্ত নদী। এ নদীটি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা ও মহেশপুর পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদী থেকে উৎপত্তি হয়েছে। পরবর্তীতে এ নদীটি যশোর জেলার চৌগাছা, শার্শা, কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর এবং আশাশুনি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়ন হয়ে খোলপেটুয়া নদীতে মিলিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ জানান, উজান থেকে ভাটির দিকে আসা নদীটির প্রস্থ কমছে প্রতিনিয়ত। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ নদীতে একসময়ঢ জোয়ার ভাটার প্রভাব ছিল। বেতনা নদীর মূল দৈর্ঘ্য ১৯১ কিলোমিটার। প্রস্থ সর্বনিম্ন ২১ মিটার। সর্বোচ্চ ৩৬৪ মিটার, গড় ৫৫ মিটার।
এদিকে, সমুদ্র উপকূল থেকে জোয়ার বয়ে আনা পলিতে নদীটি ভরাট হচ্ছে। বেতনা নদী তীরবর্তী বসবাসকারি ও ভূমিদস্যুরা নদী ভরাটের পাশাপশি চর দখল করে পুকুর, মাছের ঘের, ইটভাটাসহ বাজার সংলগ্ন স্থানে অবৈধ দখল করায় নদীটির অবস্থা এখন মৃতপ্রায়। দখলদাররা নদীর জায়গা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। এমন দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও দখলদারা তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে নদী তীরবর্তী বিলগুলো স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
তাছাড়া বেতনার নাব্যতা ফিরে এলে দু’তীরে গড়ে ওঠা বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল নৌকাযোগে বিভিন্ন মোকামে পৌঁছাতে পারবে। তাছাড়া বেতনা নদীর মাছের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠা বড় ও মাঝারি জেলেপল্লী গড়ে ওঠে। নদী ভরাট হওয়ায় অধিকাংশ মৎস্যজীবী জেলে পরিবার তাদের পেশা বদল করে অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করে বেতনার নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে পূর্বের ন্যায় আবারও নদীটির তীরবর্তী এলাকায় জেলেপল্লী গড়ে উঠবে।









