টানা বর্ষণে আর উজানের ঢল থেকে নেমে আসা পানিতে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে ব্রহ্মপুত্র পানি। এতে করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের সাড়ে চারশ গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, পানিবন্দি ৯ উপজেলায় লোকসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার। তবে বন্যা কবলিত ৫৬ ইউনিয়নের বেশ কিছু জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায়, বন্যাকবলিত এসব ইউনিয়নে পানিবন্দি লোক সংখ্যা দুই লক্ষাধিক এবং এসব পানিবন্দি মানুষ পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও খাদ্য সংকটে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, গতকাল (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ধরলা ও তিস্তার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ধরলা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টা ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তবে ধরলা ও তিস্তার পানি কমে এ দুটি নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়া লোকজনকে নিরাপদ স্থানে এবং আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের সহায়তায় চাল ও শুকনো খাবারসহ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.কে









