- বেড়েছে দাম, ক্রেতার দীর্ঘশ্বাস
দেশে সব পণ্যেরই পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না। দেশবাসীকে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গত ২৭ মার্চ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তবে বাজারের পরিস্থির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। রোজার আগেই দাম বেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে সব ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের।
রমজানের আগে এ মূল্যবদ্ধির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা এখন আর রমজানের অপেক্ষায় থাকছে না। রমজান শুরুর আগেই পরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত সুকৌশলে রমজান নির্ভর পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, যাতে রমজানে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে- এমন অভিযোগ করা না যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের অনেক আগেই বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। একই সঙ্গে খাসির মাংসের দামও বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৬০ টাকা। ৪শ ৫০ থেকে ৪শ ৮০ টাকা কেজি দরের গরুর মাংস ইতিমধ্যেই বিক্রি হচ্ছে ৬২০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম। প্রতি হালি ফার্মের লাল মুরগির ডিমের হালি এলাকাভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় উঠেছে। গরুর মাংস ও ডিমের দাম যখন এভাবে বাড়ছে তখনই এদুটি খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে বেড়েছে সব ধরনের মাছ ও সবজির দাম। সস্তা ও গরীবের মাছ নামে খ্যাত চাষের পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার কেজি ২৪০ টাকায় উঠেছে। মাত্র ১৫ দিন আগেও এই মাছগুলোর কেজি ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। বাজারে সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। কিছু সবজির কেজি ছুঁয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বাকিগুলোর বেশির ভাগের কেজি ৭০-৮০ টাকা। গত দুই মাসে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির। দুই মাস আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১২০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।
বাজারে লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজি দরে , যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২১০-২২০ টাকা। পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৬০-২৮০ টাকা।
রমজান আসার আগেই সামান্য হলেও বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন প্রকার চালের দাম। মসুর ডালের (নেপালি) কেজি গত মাসে ছিল ৯০-৯৫ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। দেশি মসুর ডাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ কেজি, যা দুই মাস ছিল ৮০-৮৫ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ টাকা দরে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে, যা দুই মাস আগে ছিল ৫০ টাকা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নারগুন এলাকার দিন মজুর সাদেক মিয়া জানান, যেভাবে রমজানের আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেই নিতে আমরা হতাশ। রমজান মাসে কিভাবে পরিবার পরিচালনা করবো বুঝতে পারছি না। কিন্তু আমাদের দিন মজুরির দাম বাড়েনি। তাই কর্তৃপক্ষ যদি বাজার মনিটরিং ঠিক মত করে তাহলে কিছু উপকৃত আমরা হতে পারি।
রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কয়েকটি নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। আর সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিক মুনাফার নেশায় মেতে ওঠে। কেউ কেউ পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। আর চাহিদা বাড়িয়ে সরবরাহ কমিয়ে বাজারকে অস্থির করে তোলে। এতে বাজার অস্থিতিশীল হয়। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। তাই এবার রমজান শুরুর আগেই বজারের দিকে নজর দিতে চায় সরকার। পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার পাশাপাশি যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিংরেয়র মাধ্যমে যে কোনও উপায়ে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে রাখতে চায় সরকার। তাই আসন্ন রমজান মাসের আগেই বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক। কিন্তু তার আগেই সব ধরণের পণ্যের দাম বাড়িয়ে বসে আছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।
ঠাকুরগাঁও জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা শেখ সাদি জানান, রমজানের আগে যে অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য মজুর করে দাম বৃদ্ধি করবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রমজানে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং এর টিম প্রতিটি দোকানে নজর দারি রাখবে। যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন, রমজানের আগেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে বৈঠক করা হয়ে যাতে দ্রব্যমূল্য হাতে নাগালে থাকে। মানুষ যেন সহজে নিত্যপণ্যগুলো ক্রয় পরিবার পরিচালনা করতে পারে। যদি কোনো অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি হরে তাহলে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সাজা ও জরিমানা করা হবে বলে তিনি জানান।









