দুই বছর আগে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়। কভিড পরিস্থিতির কারণে চাহিদা কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উৎপাদন কমে প্রায় এক কোটি কেজি। তবে চলতি বছর বিলম্বিত বৃষ্টিপাতে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন বাগানমালিকরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বলছে, সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে দেশের ১৬৭টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ ৭ হাজার কেজি, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার কেজি বেশি। অক্টোবরে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টিপাত থাকায় মৌসুমের শেষার্ধেও ভালো চা উৎপাদনের আশা করছেন বাগানমালিকরা। শেষ দিকে বাগানে চা উৎপাদন ও ভালো মানের চায়ের পরিমাণ কমলেও নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে আগের বছরের চেয়ে বেশি চা উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন তারা।
চা উৎপাদনের মাসিক বুলেটিন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সার্বিক চা উৎপাদন হয়েছে ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার কেজি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চা উৎপাদন হয়েছিল ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার কেজি। মাসভিত্তিক উৎপাদনে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৭৩ লাখ ৩ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদন হওয়ায় চলতি বছর ২০১৯ সালের চেয়েও বেশি চা উৎপাদনের আশা দেখছেন বাগানমালিকরা। অক্টোবরে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অনুকূল আবহাওয়ায় ডিসেম্বর শেষে দেশে ১০০ মিলিয়ন কেজি বা ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ডের আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার কেজি। এর মধ্যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভরা মৌসুমের চার মাসে গড়ে এক কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। অর্থাৎ এ চার মাসেই চা উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৬৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ২৬ লাখ ৮৬ হাজার কেজি। বাকি তিন মাসে ধারাবাহিক উৎপাদন ধরে রাখতে পারলে শত মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের নতুন রেকর্ড সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন চা খাতসংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, দেশে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুম ধরা হয় জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। আবার চা ভোগের ভরা মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরেই। অর্থাৎ শীত মৌসুমেই দেশে সবচেয়ে বেশি চা বিক্রি হয়। দেশে দুটি নিলাম কেন্দ্র (চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গল) থাকলেও চট্টগ্রাম নিলামেই সবচেয়ে বেশি চা বিক্রি হয়। নিলামে বিক্রি হওয়া চায়ের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১ শতাংশ ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ও ১ শতাংশ চা বোর্ডকে প্রদানের পর বন্ডেড ওয়্যার হাউজ থেকে চা সংগ্রহ করে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব চা ব্লেডিং করে মোড়কজাতের মাধ্যমে সারা দেশে বিপণন করেন ব্যবসায়ীরা। দেশে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৯ থেকে ১০ কোটি কাপ চা ভোগ করে মানুষ।
আনন্দবাজার/শহক









