ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশে গণ ও পণ্য পরিবহণ ২য় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। পরিবহণ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এই সুযোগে বাড়তি ভাড়া হাকাচ্ছেন বিভিন্ন ছোট যানবাহনের চালকরা। এদিকে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ মালিক শ্রমিক নেতারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রামে পরিবহণ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ছোট কিছু যানবাহন চললেও বেশিরভাগ মোড়ে পরিবহণ শ্রমিকদের বাঁধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। এছাড়া শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য ও কন্টেইনার পরিবহণ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলা এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে পোষাক শ্রমিকরাও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
দ্বিতীয় দিনের মতো বরিশাল থেকে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে লঞ্চ চলাচল। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। খুলনাতেও চলছে পরিবহন ধর্মঘট। পণ্যপরিবহণ বন্ধ থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পণ্য সরবরাহ হচ্ছে না বলে কাঁচা বাজারে দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করেনি। দেখা যায়নি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতেও। তবে, সড়ক মহাসড়কে অটোরিকশা, মাইক্রোবাসসহ সিএনজি চালিত ছোটোখাটো যানবাহন চলাচল ছিলো স্বাভাবিক। ধর্মঘটের সুযোগে এসব যানবাহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরেও দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে পরিবহণ ধর্মঘট। সকাল থেকে জেলার সব বাস-ট্রাক-ট্যাঙ্ক-লরী চলাচল বন্ধ রয়েছে। গন্তব্যে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। গণপরিবহণ বন্ধের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ভোগান্তি বাড়ছেই। গণপরিবহণ না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়ায় মাইক্রোবাস-সিএনজি ও অটোরিকশায় চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ময়মনসিংহে চলছে দ্বিতীয় দিনের মতো পরিবহণ ধর্মঘট। জেলা পরিবহণ মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, পরিবহনের ভাড়া সমন্বয় করা না হলে ধর্মঘট অব্যহত রাখা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম না কমালে পণ্য পরিবহণ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। এরপর পরই সারা দেশে গণ পরিবহণ বন্ধের ডাক দেন বাস মালিক শ্রমিক সমিতির নেতারা।
আনন্দবাজার/শহক









