- আয়েশাস পার্লারের বিরুদ্ধে দুই মামলা
- প্রায় ১৯ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ
রাজধানীর বনানীতে ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা করে আসা আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পা (বিউটি পার্লার) অবশেষে ভ্যাট গোয়েন্দার নজরে পড়েছে। এছাড়া ওয়ারীতে প্রতিষ্ঠানটির আরেক শাখার বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে গোয়েন্দারা। এসব অনিয়মের কারণে ওই পার্লারের শাখাগুলোর বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির পৃথক দুটি মামলা করেছে সরকারি এই সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর ওয়ারী টিপু সুলতান রোডের আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পা প্রতিষ্ঠানটি রয়েছে। ভ্যাট নিবন্ধন নাম্বার ০০২৪৮২৭১১-০৩০১। প্রতিষ্ঠানটির আরেক শাখা বনানীতে রয়েছে। যা নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা করে আসছে। মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, আয়েশাস পার্লারের দুই শাখায় গত রবিবার অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই শাখার বিরুদ্ধে ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮২ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অনিয়ম মেলে। তদন্ত শেষে মঙ্গলবার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মামলা করা হয়।
ড. মইনুল খান আরও বলেন, এক গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে এ অভিযান চালানো হয়েছে। ওই গ্রাহক আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পা থেকে সেবা গ্রহণ করলে তাকে কাঁচাচালানে বিল প্রদান করে। পরে তিনি ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেন।
এরপর ভ্যাট গোয়েন্দার উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে এক দল প্রতিষ্ঠানটির বনানী পার্লারে এবং সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেনের নেতৃত্বে ওয়ারীর পার্লারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযানের শুরুতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করা হলে, তিনি ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর এবং ভ্যাট সংক্রান্ত কোনো দলিলাদি দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনে তল্লাশি করে। প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রাপ্ত ভ্যাট ও বাণিজ্যিক দলিলাদির প্রাথমিক যাচাইয়ে গরমিল এবং ভ্যাট পরিহারের আলামত পাওয়ায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অধিকতর যাচাই/ পরীক্ষার নিমিত্তে ভ্যাট সংক্রান্ত বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করে।
তদন্ত অনুসারে, আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পার ওয়ারী শাখায় জুলাই ২০২০ সাল থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সময়ে ৭৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ টাকার সেবা প্রদান করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় সুত্রাপুর ভ্যাট সার্কেলে মাসিক রিটার্নের মাধ্যমে মাত্র ৪৩ হাজার টাকা ভ্যাট প্রদান করে।
এক্ষেত্রে সেবা কোড- এস-০৩০.০০ মোতাবেক সমুদয় সেবার বিপরীতে ভ্যাট আইন অনুসারে ১১ লাখ ১০ হাজার ২৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩২ টাকা সুদ প্রযোজ্য।
অপরদিক আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পার বনানী শাখায় নভেম্বর ২০২০ সাল থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে ৩১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪০ টাকার সেবা প্রদান করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় গুলশান ভ্যাট সার্কেলে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে সেবা কোড- এস-০৩০.০০ মোতাবেক সমুদয় সেবার বিপরীতে ভ্যাট আইন অনুসারে ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৮৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ৭৮ হাজার ৫৩৩ টাকা সুদ প্রযোজ্য।
এছাড়া আয়েশাস মেকওভার সেলুন এন্ড স্পার বনানী শাখায়নভেম্বর ২০২০ সাল থেকে ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়ে স্থান স্থাপনা বাবদ ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করে যার বিপরীতে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে। এই ফাঁকির ওপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১২ হাজার ১৯৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য। বর্ণিত তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২১ টাকা এবং সুদ বাবদ ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৬১ টাকাসহ ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮২ টাকা পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়। এই রাজস্ব পরিহারের দায়ে ভ্যাট আইন অনুসারে আজ পৃথক দুটো মামলা করা হয়েছে।
তদন্তে ওয়ারীর পার্লারের বিরুদ্ধে পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলার প্রতিবেদনটি ঢাকা পূর্ব ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভ্যাট নিবন্ধন ব্যতিরেকে ব্যবসা পরিচালনা করায় এবং ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় বনানীর পার্লারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









