বাজারের চেয়ে দাম কম, লোকসানের শঙ্কা
হবিগঞ্জে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে কৃষকদের মাঝে অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। বাজার দরের চেয়ে দাম কম হওয়ায় লোকসানের শঙ্কা রয়েছে। এদিকে সরবরাহে ভোগান্তি আর কর্মকর্তাদের হয়রানির কারণে সরকারি গুদামে ধান দিতে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনীহা। যে কারণে এবার আমন ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকও অর্জিত হবে না বলে ধারণা করছেন খাদ্য কর্মকর্তারা। যদিও কর্মকর্তাদের দাবি- অতিরিক্ত চাল সংগ্রহসহ সরকারের বিকল্প পরিকল্পনার কারণে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
এদিকে, ধান সংগ্রহের অভিযান শেষ হচ্ছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসেও ধান সংগ্রহ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার এক চতুর্থাংশ। জেলায় এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র এক হাজার ৩শ’ ২৫ মেট্রিকটন। মেয়াদকালীন সময়ে ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে অনেকেই মনে করছেন ‘সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মকসূচি’তে সংকট সৃষ্টি করবে।
জানা যায়, এবার চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ২৫২ টেন আমন ধান ও ৩ হাজার ১২২ টন চাল সংগ্রহণের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। গত ৩ নভেম্বর থেকে খাদ্য অধিদপ্তর ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে। এবার সরকার ৪০ টাকা কেজি ধরে চাল ও ২৭ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহ করছে। এ হিসেবে প্রতিমণ ধানের দাম পড়ছে ১ হাজার ৮০ টাকা। তবে জেলার বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৫০ থেকে ১১শ’ টাকায় প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে সরকারকে ধান দিতে গিয়ে বাজার দরের চেয়ে কম দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। তাই তারা লোকসানের শঙ্কা থাকায় সরকারকে ধান দিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, খুচরা বাজারের দরের কাছাকাছি দামে ধান কিনছে সরকার। এতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আরও লোকসান দেখা দিতে পারে। কারণ, সরকারকে ধান দিতে পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। সেই সঙ্গে পরিবহন খরচ, কাগজপত্রের ঝামেলা ও উপজেলা অফিসে আসা-যাওয়াতো আছেই।
চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ এলাকার কৃষক শামীম মিয়া বলেন, সরকারকে ধান দিয়ে এবার কোনো লাভ হবেনা। আরও লোকসান হতে পারে। খুচরা বাজারে দাম ভালো রয়েছে। এছাড়া পাইকাররা ধান বাড়িতে এসে নিয়ে যায়। আর সরকারকে ধান দিতে হলে পরিবহন খরচ করে খাদ্য গোদামে পৌঁছাতে হয়। এতে করে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর সুলতানশীর কৃষক শাহ আলম (ইজ্জত আলী) বলেন, বাজারে ধানের মন ১১শ’ টাকা। আর সরকার ধানের দর দেয় ১ হাজার ৮০ টাকা। যে কারণে লাভের চেয়ে লোকসান হবে। সরকার যদি আমাদের কাছ থেকে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা দরে ধান ক্রয় করতো। তাহলে খাদ্য গুদামে ধান দিলে আমাদের লাভ হতো।
জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) দিলদার মাহমুদ জানান, সরকারকে ধান দেয়ার চেয়ে পাইকারের কাছে বিক্রি করলে কৃষকরা বেশি লাভবান হন। দাম কম থাকায় গত দুইবছর ধরে ধান দিতে অনিহা দেখাচ্ছেন কৃষকরা। সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে হলে কৃষকদের নিজ খরচ ও দায়িত্বে গুদামে নিয়ে আসতে হয়। এতে তাদের পরিবহন খরচসহ অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আর পাইকাররা তাদের বাড়ি থেকে ধান সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। এতে কৃষকরা ঝামেলা ছাড়াই ধান বিক্রি করতে পারছেন।
তিনি আরও বলেন, ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্র অর্জন না হলেও সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে এর প্রভাব পড়বে না। কারণ সিদ্ধচাল সংগ্রহে আমরা লক্ষ্যমাত্র অর্জন করে এবার অতিরিক্ত সংগ্রহ করছি। এছাড়াও সরকার আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যে কারণে এবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে কোনরূপ সংকট সৃষ্টি হবে না।









