জুনায়েদ হোসেন। থাকেন রাজধানীর ওয়ারিতে। নানা কাজে প্রায় প্রতিদিনই আসতে হয় পল্টনে। বললেন, কয়েকদিন ধরে অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ। রাস্তায় বেরুলেই যানবাহনের ধোঁয়া, যান আন জনজট, অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে। এমনিতেই গরমের কারণে বিরক্তি, তার ওপর বেশি ভাড়া চাইলে মাথা ঠিক থাকে না। রাস্তায় ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকে।
আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, আয়কর আইনজীবী এবং সমাজচিন্তক। অসহনীয় গরমের কারণে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। বললেন, দেশ তো মরুকরণের দিকে যাচ্ছে। পানিস্তর নিচে নেমে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে এত নিচে নেমে গেছে যে সূর্যের তাপ আর শোষণ করতে পারছে না ভূপৃষ্ঠ। উত্তাপ ফেরত দেয়ায় তেতে উঠছে উপরিভাগ।
মোস্তাফিজুর রহমান। একজন স্থপতি। তিনিও গরমে ওষ্ঠাগত। বললেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গ্লাস বা কাঁচের দেয়াল দিন দিন বাড়ছে। এসব কাঁচ সূর্যালোককে শোষণ করতে অক্ষম। এতে প্রতিফলিত তাপ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চরম অবস্থা ধারন করে গরম। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের নির্মাণশিল্প নিয়ে যারা কাজ করেন তারা এসব বিষয় বিবেচনায় না নেয়ায় বিপর্যয় বাড়ছে।
রেদওয়ান ও শফিকুল থাকেন রাজধানীর একটি ফ্ল্যাটে। দুই রুমের ফ্ল্যাটটি একবারে উপরের তলায়। দিনভর প্রচণ্ড রোদে ছাদ আগুনের মতো হয়ে যায়। ফ্যানের বাতাসে যেন আগুন ঝড়ে। গভীর রাত অবধি প্রচণ্ড গরমে ঘুমাতে পারেন না। কয়েক দফায় গোসল করেও কাজ হয় না। বেশ কয়েক বছর ধরেই আছেন রাজধানীতে। ততে এত গরমের উত্তাপ কখনও পাননি।
প্রতিবেদক বাসে করে বাংলামটর থেকে পল্টন আসার পথে প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের অসহনীয় অবস্থা লক্ষ্য করেন। ছোটখাট ঘটনাতেও তারা প্রতিক্রিয়া দেখান। কখনও বাসের চালক হেল্পার, কখনও যাত্রীরা নিজেরাই তর্কবিতর্কে লিপ্ত হন।
আগের দিনে বুধবার পল্টন হতে বাংলামটর যাওয়ার পথে ঘটে বিব্রতকর ঘটনা। শাহবাগ পার হলে বাসের সুপারভাইজার যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নেয়ার সময় জানতে চান তিনি কোথা থেকে উঠেছেন? এই ছোট্ট প্রশ্নেই ক্ষেপে যান যাত্রী। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।
সুপারভাইজার বলেন, ৩৪ বছর আগে জগন্নাথ কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছি। ভাগ্য আমাকে এই পেশায় নিয়ে এসেছে। যাত্রীদের সঙ্গে তো খারাপ আচরণ করতে পারি না। তবে মেজাজও ঠিক রাখা যায় না সব সময়।
পল্টন মোড়ে এক রিকশাচালককে দেখা যায়, লাঠি দিয়ে ছাতা বেঁধে মাথার ওপর রেখেছেন। কেউ কেউ আবার মাথায় ছোট মাথাল ব্যবহার করছেন। বাস চালকের বেশিরভাগের মাথার ওপর পাখা থাকলেও রিকশাচালকের মাথায় থাকছে না কিছুই। এতে গরমে একদিকে কষ্ট বাড়ছে, আরেক দিকে মেজাজ হারাচ্ছেন অনেকে।
আনন্দবাজার/শহক









