চালের কেজি মিলের চেয়ে ১৮ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে ঢাকায়
করোনার প্রভাব দেখিয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম। রাজধানীর ব্যবসায়ীরা বলছে মিলে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই দাম বাড়ছে। অথচ মিল গুলোতে বাড়ে নি কোনো চালের দাম। আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়েছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করছে। তবে ঢাকার ব্যবসায়ীদের দাবি, গাড়ি ভাড়া বেশি বলে চালের দামও বেড়ে গেছে।
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) কুষ্টিয়া, শেরপুর, নওগাঁ ও দিনাজপুর এলাকায় মিলগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার সঙ্গে প্রকারভেদে চালের দামের পার্থক্য কেজিপ্রতি ১২ থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত। মিল মালিকরা বলছেন, ঢাকায় চালের দাম এতো বাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। ঢাকার আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়েছেন।
বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি। মাঝারি মানের পইজাম ও কাজল লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকা। আসন্ন রমজানকে ঘিরে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় এভাবে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীসহ নিম্নআয়ের মানুষ।
টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর খুচরা বাজারে মিনিকেট ও নাজিরশাল চালের কেজি বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬৮ টাকা। মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৮ টাকা। আর মোটা চাল বিক্রি হয় ৪২ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।
কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, আমাদের এখানে রশিদের মিনিকেট যেটা সবচেয়ে ভালো, এর ওপর বাংলাদেশে কোনো মিনিকেট নেই, সেটা বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি। অন্য মিলের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকা কেজি। মাঝারি মানের চাল কাজল লতা, পাইজাম ও আটাশ ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা। আর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা দরে।
এসব চালের ঢাকার দাম জানিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়নাল আবেদীন বলেন, ঢাকায় চালের দাম কেন বেশি এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের মিলগুলোতেও চালের দাম বাড়েনি।
ঢাকায় চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে দিনাজপুরের চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিদুর রহমান পাটোয়ারি মহন জানান, ঢাকার আড়তদারদের কাছে যে পরিমাণ চাল আছে তাতে চালের দাম বাড়ার কথা নয়, সংকটও হওয়ার কথা নয়। আমি নিশ্চিত তারা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের এখানে সাতদিন আগে চালের দাম যা ছিল, এখনো তাই আছে।
আনন্দবাজার/রনি









