পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি ) মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং পুঁজিবাজার কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মফিজ উদ্দীন আহমেদ। তবে তিনি বলেন, যেসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মতভেদ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে আরো একটি বৈঠক করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, এনবিআর, আইসিবিসহ অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা। শেষে মফিজ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুই পক্ষের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যেসব আলোচনা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে কথা হয়েছে। এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। এজন্য আরো একটি বৈঠক করতে হবে। ওই বৈঠক চলতি মাসে বা পরের মাসের শুরুতে হবে। এরপর পুঁজিবাজারের জন্য দৃশ্যমান কিছু দেখা যাবে।
দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি ) দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নিয়ে দুই পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা ও ব্যাখার কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের সুষ্ঠু সমাধানও চায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। এদিকে পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন নিয়ে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা তৈরি হয়েছে। সে কারণে বর্তমানে দেশের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি) একে অপরের পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, দীর্ঘ মন্দার পর চলতি বছরে পুঁজিবাজার জেগে ওঠেছে। এর মধ্যে বাজারের উত্থান পতন নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধ বা টানাপোড়েন থাকতে দেওয়া যাবে না। শিগগিরই সমাধান করতে হবে। তাদের কথা, পুঁজিবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক হতে হবে। একসঙ্গে কাজ করতে হবে। না হলে পুঁজিবাজারের সামনের দিন ভালো যাবে না।
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সবাইকে একহয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে দৈনিক আনন্দবাজারকে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল ইসলাম বলেন, এখানে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতামূলক আচরণ জরুরি। শেয়ারের ক্রয়মূল্য ধরে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের বিষয়ে প্রয়োজনে আইনের সংশোধন করা দরকার। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হবেন তিনি।
২০১৯ সালে মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে ছিল পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠন, বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা দেয়া এবং পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগ পুঁজিবাজার এক্সপোজারের বাইরে রাখা। এর বাইরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর পুঞ্জিভূত লোকসান থাকলেও কোনো বছরে মুনাফা করলে লভ্যাংশ দেয়ার সুযোগ দেয়ার পক্ষে প্রস্তাব দেয়া হয়।
পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত মুনাফা দিয়ে গঠন করা স্থিতিশীলতা তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানি থেকে টাকা আসতে যেন বাধা দেয়া না হয়, এই বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাইছে সংস্থাটি। তবে বিএসইসির প্রধান চাওয়া পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজার মূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণ করা এবং বন্ডে বিনিয়োগকে ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখা। এসব বিষয় নিয়ে গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক হয়।
বৈঠক প্রসঙ্গে ওইদিন বিএসইসির কমিশন ড. শামসুদ্দীন বলেন, এসব বিষয়ে দুই সংস্থা একমত হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, বিএসইসির বরাত দিয়ে যেসব সিদ্ধান্তের কথা সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হয়েছে, তা সঠিক নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দাবি করা মূলধনের টাকা স্টাবিলাইজেশন ফান্ডে হস্তান্তর আইনসম্মত নয়। বিএসইসির প্রতিনিধি দলকে গত মঙ্গলবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের বিনিয়োগের ব্যাপারে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বিরোধ প্রকাশ্যে এলো।
আনন্দবাজার/শহক









