দেশের অর্থনীতিতে ভর্তুকির চাপ বেড়েই চলেছে। একদিকে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের চাপ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- এলএনজি ও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালে অর্থবছর শেষে ভর্তুকি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে বাড়বে বাজেট ঘাটতি। বিরূপ প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। চাপে পড়বে দেশের অর্থনীতি।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ভর্তুকি খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয় ৪৯ হাজার কোটি টাকা। পরিস্থিতি ক্রমে প্রতিকূল হয়ে ওঠায় ভর্তুকির অঙ্ক ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেছে। এবার ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা শতকরা হারে মোট জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয় চায় বাজেট ঘাটতি ৬ শতাংশের নিচে রাখতে। এটা করতে হলে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। অন্যথায় ঘাটতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদায়ী বছরের শেষ মাসে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। ভর্তুকির চাপ সহনীয় রাখতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়ালে ভর্তুকি বাবদ বর্তমানের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকা লাগবে। অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সার অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য। এর দাম বাড়ালে কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় সারের দাম না-ও বাড়াতে পারে। তবে বাকি দুটি সেবা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বছর শেষে জ্বালানি খাতে বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা এবং এলএনজি খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছে, তাদের সবকিছু মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। অথচ বাজেটে বরাদ্দ আছে ৯ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি দেয়া হয় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ বরাদ্দটা প্রধানত সার আমদানিতে। সরকার বেশি দামে সার কিনে ডিলারের মাধ্যমে কম দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছরে সার বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে বলে অর্থ বিভাগকে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ধরা রয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের যে অবস্থা তাতে এই ভর্তুকিতে কুলানো সম্ভব হবে না। কারণ চলতি অর্থবছরের শুরুতে যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৪৫ ডলার সেখানে সেই তেল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ ডলারে।
আনন্দবাজার/শহক









