খাগড়াছড়ি মাটিরাঙ্গার হাজার হাজার পামওয়েল গাছ অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে। সম্ভাবনার কথা ভেবে পাহাড়ের কৃষকরা পামওয়েল চাষ করে। তবে ফল বিক্রি ও তেল উৎপাদন করতে না পারায় অযত্ন ও অবহেলায় গাছে ফল নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। হতাশায় কৃষকরা। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপজেলার তাইন্দং, তবলছছড়ি, কালাপানি ইউনিয়ন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে পাম বাগান সৃষ্টি করা হলেও গাছগুলো থেকে তেল উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এতে করে একদিকে যেমন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
সরকারের হস্তক্ষেপে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে এসব পামগাছ রক্ষা করে তেল উৎপাদন করলে একদিকে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বাড়বে ও ভোজ্যতেল সংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করেন চাষি ও উদ্যোক্তারা।

চাষি ইমরান হোসেন জানান, ২০০৭ সালে মাটিরাঙ্গায় প্রায় ২ হাজার একর জায়গায় দুই লাখ পাম গাছ গাছ রোপন করি। চাষের পাঁচ বছর পর থেকেই গাছ বড় হয়ে ফলন দেওয় শুরু করেছে। তবে, তেল প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় ফলগুলো গাছেই পচে নষ্ট হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সরকার অথবা কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এগুলো সংগ্রহ করে তেল উৎপাদনের উদ্যোগ নিচ্ছে না।
পাম চাষি মনির হোসেন জানান, সম্ভাবনার কথা ভেবে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পামওয়েল চাষ করেছিলাম। অনেক শ্রমিক এ বাগানের উপর নির্ভরশীল। এ বাগান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেলো, তবে আমরা এ ফলগুলো বিক্রি করতে পারছি না। এছাড়া এখানে ভালো মেশিন না থাকায় তেল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

উদ্যোক্তা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পামওয়েল থেকে তেল সংগ্রহ করতে খাগড়াছড়ির বিসিক শিল্প এলাকায় অনেক টাকা ব্যয় করে একটি মেশিন স্থাপন করা হয়। তবে, সেখানে পামওয়েল ভাঙানোর পরে রিপিয়ারিং করে তেল উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। তবে, মালয়েশিয়া থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি মেশিন আমদানি করলে তেল উৎপাদন করা সম্ভব।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত বলেন, তেল উৎপাদন করতে না পারায় অযত্ন ও অবহেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে এ গাছগুলো। এতে কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপযুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা না থাকায় কৃষক সহজে বাজারজাত করতে পারছেন না। এতে সম্ভাবনা থাকলেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ বছর আগে গাছগুলো লাগানো হয়েছে। তবে সকারের পক্ষ থেকে পাম ফল থেকে তেল উৎপাদনের জন্য দেশে এ পর্যন্ত কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপিত হয় নাই। এ পামগাছগুলো থেকে উপাদিত ফলগুলো কোনো কাজে আসতেছে না। কৃষকরা এটা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে।
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ বলেন, এত বড় গাছ কেটে জমি পরিস্কার করতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ আছে। জমি থেকে গাছ কেটে নতুন করে কোনো বাগান করতে পারছে না। জমি পড়ে আছে অবহেলার। এখন কৃষদের জন্য গলার কাঁটার মতো দাঁড়িয়ে আছে পাম গাছ।
আনন্দবাজার/শহক








