- ব্র্যান্ডিং করতে পারেন প্রবাসীরা
- ফ্রান্স সফরে বাংলাদেশের মূল্যায়ন
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও বিনিয়োগের অপার সুযোগ-সক্ষমতার বিষয়টির প্রচার ও প্রসার ঘটাতে বিদেশে অবস্থানরত তরুণদের সম্পৃক্ত করতে চায় দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর থেকে ফিরে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিব্যক্তি জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুই সপ্তাহের যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফরের সময় ৬ টি স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর ও দেশ দুটির ব্যবসায়িদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সফরে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল দেশ দুটিতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে বিভিন্ন বিজনেস ইভেন্টে অংশ নেয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আহবান জানানো হয়।
এফবিসিআই সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের তরুণরা খুব ভালো অবস্থানে ব্যবসা ও চাকরি করছে। সেসব তরুণদের বিদেশের বাজারে বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্র্যাডিংয়ে কাজে লাগাতে হবে। সে ক্ষেত্রে দেশ দুটির বাংলাদেশি ব্যবসায়ি সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এফবিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সবুজ কারখানা রয়েছে তা যুক্তরাজ্যের অনেক ব্যবসায়ী জানেন না। আমাদের যে ১০১টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে এবং সেখানে বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে তা জানাতে হবে। এখন বাংলাদেশ সম্পর্কে ব্র্যান্ডিয়ের সময় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাজার নিয়ে যৌথ গবেষণার জন্য লন্ডনে বিনিয়োগ সম্মেলনে এফবিসিসিআই এবং এইচএসবিসি-র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে দেশটির বাজারে পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বাজারসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কী কী করতে হবে তা বোঝার জন্য বাজার বিশ্লেষণ করা হবে। পিডাব্লিউ নামের একটি সংস্থা মার্কেট সার্ভে করে প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ সম্পর্কে জানাবে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এ ধরণের সর্ভের মাধ্যমে পণ্য বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে কাজ করা হবে জানানো হয়।
যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ রফতানির পরিমাণ ৩৪৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাংলাদেশের আমদানি ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশের সামনে রপ্তানি পণ্যে কোটা বাতিল ও বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। যা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দেশের ব্যবসায়ি সমাজ।
ফ্রান্স সফরে এবার বাংলাদেশকে অনেক মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানান এফবিসিআই সভাপতি। বাংলাদেশকে একটি বড় কাস্টমার মনে করে ফ্রান্স এ সম্মান জানিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। দেশটির এয়ারবাস বিমান কোম্পানি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিমান বিক্রি করতে পারবে বলে মনে করছে। অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় বিদেশে গিয়ে জোর গলায় বিনিয়োগের আহ্বানের সুয়োগ সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে হাইটেক পার্ক ও ইপিজেড নিয়ে মার্কেটিংয়ে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছে সংগঠনটি।
ইতোমধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এফবিসিসিআই ১৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি কাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তাছাড়া ইনোভেশন সেন্টার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। ব্যবসা সহজিকরণ নিশ্চিত করেতে বিডা কাজ করছে এবং ১৭ থেকে ১৮টি সেবা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এম.এ. মোমেন এবং মো. আমিনুল হক শামীমসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
আনন্দবাজার/শহক









