গত বছর (২০১৯ সালে) দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ১৯৮০ সালে দেশের চা উৎপাদন ছিল তিন কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার কেজি। আর সর্বশেষ ২০১৯ সালে উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। এতে চার দশকে দেশের চা উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উৎপাদন তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ সালে দেশে চা উৎপাদন ছিল আট কোটি ১৮ লাখ কেজি। ২০১৭-১৮ সালে ছিল সাত কোটি আট লাখ ১১ হাজার কেজি। এর আগের তিন বছরে (২০১৩-২০১৫) গড় উৎপাদন ছিল ছয় কোটি ৫৮ লাখ কেজি। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ সালে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৩৩ হাজার একর জমিতে। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৬৫ হাজার একরে। ২০১৮-১৯ সালে তা দাঁড়ায় এক লাখ ৩৩ হাজার একরে।
লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নবম। তাদের হিসাবে বিশ্বের মোট চায়ের ২ শতাংশই উৎপাদন হয় বাংলাদেশে।
সংস্থাটির হিসাবে চা উৎপাদনে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। উৎপাদনে বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টিনা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চায়ের একরপ্রতি উৎপাদনের কমবেশি হয় মূলত মাটির গুণাগুণ, আবহাওয়া এবং বাগান পরিচর্যার ওপর। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চায়ের উৎপাদন বেশি হয়। ফলে চায়ের বাজার কিছুটা কমবেশি হয়।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, আমাদের দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে চায়ের ভোগও বেড়েছে। আশির দশকে দেশে যে চা উৎপাদন হতো তার ৮০ শতাংশই রপ্তানি হয়ে যেত। বর্তমানে যা উৎপাদন হয় তার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশই দেশের বাজারের জন্য লাগে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্নজন বিভিন্ন কারণে আমদানি করে। কেউ উন্নত মানের চা এনে দেশি চায়ের সঙ্গে বাজারজাত করে। আবার কেউ দাম কম হওয়ায় আমদানি করে। তবে এটিও হবে না যদি আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করা যায়। এ খাতের মূল সমস্যা হলো, প্রতি হেক্টরে উৎপাদন বাড়ানো। এখন বাগানের চারাগুলো ৪০ বছরেরও পুরনো। এগুলো তুলে আবার নতুন করে উচ্চফলনশীল চারা লাগাতে হবে।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহ মঈন উদ্দীন হাসান বলেন, চা আমদানি হয় মূলত দুটি কারণে। একটি হলো উন্নত মান, অন্যটি হলো কম দাম। দেশের উন্নত চা খুব বেশি উৎপাদন না হওয়ায় কিছু আমদানি করতে হয়। আর মাঝে মাঝে দেশের নিলামকেন্দ্রগুলোতে দাম বেড়ে যায়। তখন অন্য দেশ থেকে কম দামে আমদানি করা হয়।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









